1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আজ আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করছে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৪ Time View

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিদ্যমান বাণিজ্য বাধা কমানোর লক্ষ্যে আজ (২৭ অক্টোবর) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।

আলোচনায় চুক্তির খসড়া, বাজারে প্রবেশাধিকার, পণ্যের তালিকা এবং চুক্তি চূড়ান্ত করার সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

আজ সকাল ১০টায় ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশ ইতোমধ্যে চুক্তির প্রাথমিক খসড়া বিনিময় করেছে। উদ্বোধনী পর্ব শেষে এসব খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

আলোচনায় অংশ নিতে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় পৌঁছেছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড রিজিওনাল গ্রুপিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. রশিদি সাইদ।

অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, বৈঠকে চুক্তির খসড়া, আলোচনার সময়সূচি এবং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের বিষয়ে আলোচনা হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সফরে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

আজকের আলোচনা সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে দেশটি থেকে আমদানি হয়েছে ২২৯ কোটি ডলারের পণ্য। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০১ কোটি ডলার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হলে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কসুবিধা বাড়তে পারে। পাশাপাশি তৈরি পোশাকের বাইরে কৃষিপণ্য, চামড়া, পাদুকা, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও প্রকৌশল পণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে নিট পোশাক। এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

একই সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং ওভেন পোশাক থেকে এসেছে ৬ কোটি ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, প্লাস্টিক ও রাবার, প্রকৌশল পণ্য, ওষুধ, রাসায়নিক পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য ও আসবাবপত্র।

মালয়েশিয়া থেকে আমদানিতে জ্বালানি পণ্যের প্রাধান্য

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ তেল, পাম তেল, রাসায়নিক পণ্য, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রাধান্য রয়েছে।

মালয়েশিয়ার বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার রপ্তানি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৮৪ কোটি রিঙ্গিতে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ২৪৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে মালয়েশিয়া। এর মধ্যে জ্বালানি পণ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৯ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানির ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় ২৯ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে দেশটি থেকে আমদানি হয়েছে ২৬০ কোটি ডলারের পণ্য। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩১ কোটি ডলার।

শুল্ক ছাড়ের বাইরেও আলোচনায় বিভিন্ন বিষয়

কর্মকর্তারা জানান, বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় পণ্যের উৎপত্তিসংক্রান্ত বিধি (রুলস অব অরিজিন), সেবা খাত, বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানির বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক প্রবেশাধিকার বজায় রাখা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ