ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে—এমনটা তিনি বিশ্বাস করেন না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন পদক্ষেপ নিলে ন্যাটোর জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে।
নতুন বছরের ঐতিহ্যবাহী সংবাদ সম্মেলনে মেলোনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি জোরদার করা হলে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলো ওই অঞ্চলে প্রভাব বাড়াতে পারে—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে উদ্বেগ রয়েছে, তা মোকাবেলা করা যাবে এবং ওয়াশিংটনের একতরফা পদক্ষেপের চাপ কমবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন মেলোনি বলেন, ‘আমি এখনো মনে করি না যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক অভিযান চালাবে—এমন কোনো সম্ভাবনায় আমি বিশ্বাস করি।
এমন একটি বিকল্পকে আমি স্পষ্টভাবেই সমর্থন করব না।’
গত সপ্তাহান্তে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক অভিযানের পর আর্কটিক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এবং ইউরোপের নিরাপত্তা নীতিতে ভূমিকা ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে; সেই প্রেক্ষাপটেই মেলোনির এই মন্তব্য আসে, যা গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ট্রাম্পের অভিপ্রায় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ উসকে দিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ নেতা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানে আটক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেও, মেলোনি বলেন তিনি ওই অভিযানকে সমর্থন করেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলা বিষয়ে আমি ট্রাম্পের সঙ্গে একমত।
গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে আমি একমত নই।’ তিনি আরো বলেন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানে থাকা এই বিশাল ভূখণ্ড দখল করা কারো স্বার্থেই হবে না।
তিনি যোগ করেন, ‘স্পষ্ট করে বললে, এটি যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থে হবে না।’
হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মেলোনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপ ন্যাটোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে—এটা ‘সবার কাছেই স্পষ্ট’; আর এ কারণেই তিনি মনে করেন, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত হুমকি বাস্তবায়ন করবে না।
তবে তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘অন্যান্য পক্ষের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ—যারা এমনকি শত্রুভাবাপন্নও হতে পারে—ঠেকানোর প্রয়োজন’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ তিনি বোঝেন।
মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং গত বছর ট্রাম্পের অভিষেকে উপস্থিত থাকা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন তিনি।
তার সমর্থকেরা আশা করেছিলেন, তিনি ট্রাম্পের কাছে বিশেষ প্রবেশাধিকার পাবেন এবং ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে উঠবেন।
তবে এখন পর্যন্ত তার পরামর্শে ট্রাম্প কান দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
মেলোনি শুক্রবার বলেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে অনেক বিষয়ে আমার দ্বিমত আছে। উদাহরণ হিসেবে, আমি মনে করি আন্তর্জাতিক আইনকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা জরুরি। … যখন আমার দ্বিমত হয়, আমি তাকে তা বলি—এতে আমার কোনো অসুবিধা নেই।’