আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারদের যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনেকেই বাদ পড়ছেন। এসব প্রার্থীর অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আবার অনেকে দলের মনোনয়ন না পেয়েও দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁদের বেশির ভাগ বাদ পড়েছেন নিজ নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরসংক্রান্ত জটিলতায়।
আর যাঁরা দলের মনোনয়ন না পেয়েও দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তাঁরা বাদ পড়ছেন দলের মনোনয়ন দেখাতে না পারায়। রিটার্নিং অফিসারদের যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপির মূল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণার সংখ্যা অন্য দলগুলোর তুলনায় অনেক কম। কিছু আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কারণে একজনের বাতিল হলেও বিকল্প প্রার্থী বহাল থাকছেন। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে বিএনপিকে ওই আসনে একজনকে চূড়ান্ত করতে হবে। যশোর-৪ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী টি এস আইয়ুবের মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে অবৈধ ঘোষণা হলেও ওই আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফরাজির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সিলেট-৩ আসনে মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রার্থিতা দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে গতকাল শনিবার পর্যন্ত স্থগিত ছিল। আব্দুল মালিক জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। রিটার্নিং অফিসার এর প্রমাণ দাখিল করতে বলেছেন।
বাছাইয়ে বাদ পড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর ও সিরাজদিখান) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মোমিন আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের মনোনয়নও বাতিল হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়াদের তালিকায় টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আবদুল হালিম মিঞা, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য শাহ আলম তালুকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নূরে আলম ছিদ্দিকীসহ আরো অনেকে রয়েছেন।
তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র দুটি আসনেই বৈধ : ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেন ঢাকার ১৩টি আসনের রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ঘোষণার সময় তারেক রহমানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করায় তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামানের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বগুড়া-৬ (সদর) আসনেও গতকাল সকালে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।
এ ছাড়া বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর), দিনাজপুর-৩ ও ফেনী-১ আসনে বিএনপির সদ্যঃপ্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার তৌফিকুর রহমান বলেন, বিএনপির প্রার্থী তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দাখিল করা মনোনয়নপত্রটির বিষয়ে সব ধরনের নির্বাচনী কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো। প্রসঙ্গত, বেগম খালেদা জিয়ার তিনটি আসনেই বিএনপির বিকল্প প্রার্থী রয়েছেন। বগুড়া-৭ আসনে রয়েছেন গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদ মিল্টন। তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জামায়াত আমিরের মনোনয়নপত্র বৈধ : ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র এবং বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেলের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ঢাকা-১৫ আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর এই ঘোষণা দেন রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী।
তিনি বলেন, সব কাগজপত্র ঠিক থাকায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় জামায়াতের মো. শফিকুর রহমান, বিএনপির মো. শফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ জাসদের মো. আশফাকুর রহমান, জনতার দলের খান শোয়েব আমানউল্লাহ এবং গণফোরামের এ কে এম শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হলো। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্র যথাযথ না হওয়ায় সিপিবির প্রার্থী সাজেদুল হক রুবেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তানজিল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির শামসুল হকের মামলার তথ্য নিয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র সম্পর্কে সিদ্ধান্ত পরে দেওয়া হবে।
বাছাইয়ে বৈধ এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম, রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন, ঢাকা-৮ আসনে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারি, পঞ্চগড়-২ আসনে সারজিস আলমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হক, ববির মনোনয়নপত্র বৈধ : ঢাকা-১৩ আসনের ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক ও বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। আর বাতিল হয়েছে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র। তাঁরা হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুরাদ হোসেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মো. শাহাবুদ্দিন ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া। আর অবৈধ ঘোষণা হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মো. খালেকুজ্জামান ও আমজনতার দলের প্রার্থী রাজু আহমেদের মনোনয়নপত্র।
আরো যাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ : চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির যে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তাঁরা হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার। গতকাল শনিবার সকালে যাচাই-বাছাই শষে তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। গত ৪ ডিসেম্বর গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই আসনে গত ২৮ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খন্দকারকে মনোনয়ন দেয় দল।
বিএনপির এই দুই প্রার্থী ছাড়া বাকি তিনজনের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মঞ্জু, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী ও গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দীন তালুকদার।
জামায়াতের ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল/স্থগিত : জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার একটি মামলা রয়েছে, যা হলফনামায় গোপন রাখার অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল করা হয়। কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলমের (সালেহী) মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করলেও এসংক্রান্ত কোনো প্রমাণপত্র দাখিল করেননি। সংবিধান ও নির্বাচনী বিধিমালার আলোকে দ্বৈত নাগরিকত্ব বজায় রেখে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে প্রার্থী অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে একটি এমপিওভুক্ত কলেজে শিক্ষকতা বহাল রাখার কারণে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেউ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে পদত্যাগ করতে হয়। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে হলফনামায় সব তথ্য না থাকায় দলটির প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলের মনোনয়নও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ব্যাংকঋণ (ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত) সমস্যার কারণে। গতকাল ঢাকা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়ার সভাপতি কর্নেল (অব.) আবদুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সভায় এই প্রার্থীর উদ্দেশে রিটার্নিং অফিসার রেজাউল করিম বলেন, ‘ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, আপনি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। আপনি অফিশিয়ালি বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত ঋণখেলাপি। এ ছাড়া আপনার (আবদুল হক) ইনকাম ট্যাক্সের রিটার্ন কপি জমা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে আপনি জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও দেননি। এ ছাড়া আপনি প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের তথ্য দেননি।’
অন্য দলগুলোর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কমপক্ষে ৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা হয়েছে নাগরিক ঐক্য, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও খেলাফত মজলিসের কমপক্ষে দুজন করে এবং জাতীয় পার্টি (আনিসুল-রুহুল), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাসদ (মার্ক্সবাদী), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের একজন করে প্রার্থীর। এসব দলের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঢাকা-১৮ আসন থেকে মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।
তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল : গতকাল ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, জাারার নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের মধ্যে চার হাজার ৩০০ জনের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। তিনি এর বেশি ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেন। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, এসব ভোটারের মধ্যে দৈবচয়নের ভিত্তিতে নেওয়া ১০ জনের মধ্যে আটজন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। বাকি দুজন ওই আসনের ভোটার না হওয়ায় নির্বাচন বিধি অনুযায়ী তাঁর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তাঁর (তাসনিম জারা) আপিলের সুযোগ আছে।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল : জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এ সিদ্ধান্ত জানান। হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের মিল না থাকায় আনিসুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এর আগে গতকাল সকালে বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে একদল লোক জড়ো হয়ে জাতীয় পার্টির নেতা আনিসুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। এ সময় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ পাহারা জোরদার করা হয়। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক ও শাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রিটার্নিং অফিসার জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জনের তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের স্বাক্ষরের সত্যতা পাওয়া যায়নি। সে কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যানের মনোনয়ন বাতিল : ঝালকাঠি-১ আসনের গতকাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করায়), স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত (ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল) ও মঈন আলম ফিরোজী (মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর), গণঅধিকার পরিষদের শাহাদাত হোসেন (শিক্ষাগত সনদ না দেওয়ায়), স্বতন্ত্র কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমানের (১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল ও ঋণ পরিশোধ না করায়) মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ঝালকাঠি-২ আসনের জাতীয় পার্টির এম এ কুদ্দুস খান (ঋণ পরিশোধ না করায়), স্বতন্ত্র মো. নুরুদ্দীন সরদার (ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল) ও স্বতন্ত্র সৈয়দ রাজ্জাক আলীর (আয়কর বকেয়া) মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জের দুটি আসনে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল : গোপালগঞ্জ-১ ও ২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ গতকাল সম্পন্ন হয়েছে। গোপালগঞ্জ-১ আসনে ১৩ প্রার্থীর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী কাবির মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম, নাজমুল আলম ও কাইউম আলী খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান।
এ ছাড়া গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া, শিপন ভূইয়া, রনি মোল্লা, উৎপল বিশ্বাস ও মশিউর রহমান। ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল ও ঋণখেলাপির কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের কাজ চলবে আজ রবিবার পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে।