সাম্প্রতিক বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্য ‘বিপদসঙ্কুল’ বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদ ও কলম্বিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণকে ‘আগ্রাসী ও ন্যাক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। খামেনির মতে, এই হুমকির পেছনে মূল কারণ হলো বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা।
আলী খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টাই করছে না, বরং দেশটির আনুমানিক ৩০৩ থেকে ৩০৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের বিশাল ভাণ্ডারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। উল্লেখ্য, এটি বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। খামেনির দাবি, এই বিপুল সম্পদের লোভ ও বিশ্ব শক্তি নিয়ন্ত্রণ করাই মার্কিন নীতির প্রকৃত উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রকে “ভূমি ও সম্পদ দখলদার” হিসেবে আখ্যায়িত করে খামেনি বলেন, ওয়াশিংটন ক্রমাগত বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ, তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ এবং রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের নেপথ্যে কেবল “তেলের লোভ ও ক্ষমতা বিস্তারের” ইচ্ছা কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন।
খামেনি তার ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণকে উগ্র রাজনৈতিক মানসিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কবজা করতে চায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে লাতিন আমেরিকা পর্যন্ত বর্তমানে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা এই নীতিরই অংশ।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, খামেনির এই সমালোচনা পশ্চিমা নীতির বিরুদ্ধে তার দীর্ঘদিনের অবস্থানের প্রতিফলন। যদিও তার বক্তব্যে মার্কিন স্বার্থের বিষয়টি উঠে এসেছে, তবে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সংকটের নেপথ্যে কেবল তেলের রাজনীতি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মতো জটিল বিষয়গুলোও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।