1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

৭ মার্চ বিশ্ব ইতিহাসেও এক মহিমান্বিত দিন : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০২৩
  • ৫৩ Time View

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ৭ মার্চ শুধু আমাদের জাতীয় জীবনে নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এক মহিমান্বিত দিন। কারণ, বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ আজ জাতিসংঘের ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল। এ স্বীকৃতি বাঙালি জাতির জন্য এক বিরল সম্মান ও গৌরবের স্মারক।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠে রচনা করেছিলেন রাজনীতির মহাকাব্য। ঐতিহাসিক সে ভাষণ নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে রাতারাতি সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিল।
মোজাম্মেল হক বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ কোনো সাধারণ জনসভার ভাষণ ছিল না। এটি ছিল স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত বাঙালি জাতির উদ্দেশে জাতীয় মুক্তি তথা স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে বঙ্গবন্ধুর লড়াইয়ের চূড়ান্ত আহ্বান।
তিনি বলেন, এই ভাষণে ছিল আসন্ন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের পূর্ণ দিকনির্দেশনা। এ ভাষণ প্রকৃত অর্থেই ছিল বাঙালির স্বাধীনতার ঘোষণা। বাঙালির জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে হাজার বছর ধরে লালিত আশা-আকাঙ্ক্ষা, আন্দোলন-সংগ্রাম, স্বপ্ন ও স্বপ্ন রূপায়নের এক নিখুঁত পরিকল্পনা এই ভাষণ।
মন্ত্রী বলেন, উপস্থিত লাখ লাখ মুক্তিকামী জনতা সেদিন বঙ্গবন্ধুর ইঙ্গিত বুঝে পরবর্তী কর্তব্য নির্ধারণ করে নিয়েছিলেন। তারই প্রত্যক্ষ ফসল দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত লাল-সবুজের স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই দিনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশে ছন্দময় শব্দের ঝংকারে ১৮ মিনিটের যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির আবেগ, স্বপ্ন ও আশা-আকাঙ্ক্ষার এক মহাকাব্য। শব্দচয়ন থেকে শুরু করে যার প্রতিটি শব্দ উচ্চারণে ছিল বঙ্গবন্ধুর অসীম সাহস, সীমাহীন ত্যাগ, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা আর হৃদয় উৎসারিত তেজস্বিতা ও সম্মোহনী ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের এ ভাষণ তার গভীর জীবনবোধের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার দর্শন ও কূটনৈতিক বুদ্ধির স্বাক্ষর বহন করে। তাই এই ভাষণ শুধু বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের দলিল নয়, বাঙালির মুক্তির চেতনারও প্রতীক।
কে এম খালিদ বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ যোগাযোগ বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক প্রয়োগের এক বিস্ময়কর ঘটনা। প্রতি মিনিটে গড়ে ৫৮ থেকে ৬০টি শব্দ উচ্চারণ করে বঙ্গবন্ধু ১৮ মিনিটে এ কালজয়ী ভাষণটি শেষ করেছিলেন। এ ভাষণ যেমন সারগর্ভ, ওজস্বী ও যুক্তিযুক্ত তেমনি তির্যক, তীক্ষ্ণ ও দিকনির্দেশনাপূর্ণ। অপূর্ব শব্দশৈলী, বাক্যবিন্যাস ও বাচনভঙ্গির একান্তই নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এ ভাষণ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ শুধু ভাষণ নয়, এটি একটি অনন্য রণকৌশলের দলিল। পৃথিবীর ইতিহাসে যতদিন পরাধীনতা থেকে মুক্তির সংগ্রাম থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি মুক্তিকামী মানুষের মনে চিরজাগরুক হয়ে থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ