1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দেশীয় অর্থায়নে দ্রুত বাস্তবায়ন হবে ‘তিস্তা মেগা প্রকল্প’: পানিসম্পদমন্ত্রী জনসচেতনতা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে : মৎস্য প্রতিমন্ত্রী ফল উৎসবের পেছনে আছে সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শন: তথ্যমন্ত্রী পাবলিক পরীক্ষা আইনে ডিজিটাল নকলের সাজা যুক্ত করা হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী বাবার ‌‘পিট’ কেটে মায়ের সঙ্গে সন্তানরা, আইনি লড়াই শেষে স্বস্তিতে জোলি দেশি বিনিয়োগেই ভরসা খুঁজছে বিডা দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল যেখানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

এক বস্তা চালের বিনিময়ে সন্তান দিয়ে দিলেন মা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৯
  • ৬৭ Time View

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মোমেন মিয়া। সহায় সম্বল বলতে আছে শুধু একটি ঝুপড়ি ঘর। গত বছরই দরিদ্র মোমেন মিয়ার পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজনে দাঁড়ায়।

দারিদ্র্যের কাছে হেরে সংসারের ভার নিতে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামেন মোমেন মিয়া। তবে ভিক্ষাবৃত্তির টাকায় আর সংসার চলছিল না। অবশেষে হতাশ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরই মধ্যে আবার অন্তঃসত্ত্বা হন তার স্ত্রী।

একদিকে মোমেন মিয়া অসুস্থ অন্যদিকে স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। এসবের সঙ্গে যোগ হয় সংসারের অভাব। গত কয়েক মাসে প্রায় অর্ধলাখ টাকার ঋণের বোঝা মাথায় পড়ে মোমেন মিয়ার।

এসবের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় একটি হাসপাতালে মোমেন মিয়ার স্ত্রী ষষ্ঠবারের মতো একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। কিন্তু এই সন্তানের ভরণপোষণের কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। কোনো উপায় না পেয়ে একদিন বয়সী নবজাতককে তুলে দেন স্থানীয় এক নিঃসন্তান দম্পতির হাতে। বিনিময়ে পান চার হাজার টাকা ও এক বস্তা চাল। অসহায় বাবা মোমেন মিয়া গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামের সাহিদ মিয়ার ছেলে।

বৃহস্পতিবার সকালে কথা হয় মোমেন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ছোট একটি ঝুপড়ি ঘরে সাতজনের বসবাস। আসলে আমরা সমাজে খুবই অবহেলিত। একদিন ভিক্ষা না করলে চুলায় আগুন জ্বলে না। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, ভিক্ষা করে পাঁচ সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেয়া কষ্টসাধ্য। একবেলা খেলে অন্যবেলায় না খেয়ে থাকি। আমি অচল মানুষ কিছু করতে পারি না।

মোমেন মিয়ার ভাষ্য, এসবের মধ্যে ঘরে আসে ষষ্ঠ সন্তান। যেখানে আগের সন্তানদের মুখে খাবার দিতে পারি না সেখানে নতুন সন্তানের কি হবে ভেবে বুকে পাথর চাপা দিয়ে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছি; অন্তত সেখানে এই সন্তান বাঁচতে পারবে, একটু ভালো থাকতে পারবে- এই আশায়।

এদিকে, একদিন বয়সী নবজাতককে নিঃসন্তান দম্পতির হাতে তুলে দেয়ার পর থেকে কাঁদছেন মোমেন মিয়ার স্ত্রী। কারও সঙ্গে কোনো কথা না বলে শুধুই কাঁদছেন তিনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সমাজকর্মী ফখরুল ইসলাম বলেন, একটি পরিবারের বাবা-মা যখন তার সন্তানকে দারিদ্র্যের কারণে অন্যের হাতে তুলে দেন তখন বুঝতে বাকি থাকে না; আসলে পরিবারটি কতটা অসহায়। এটি আমাদের জন্য লজ্জার। মোমেন মিয়ার পরিবারের সহযোগিতায় সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ