বাজার নিয়ম মেনে চললে দেশের অধিকাংশ ব্যাংক বিলুপ্ত হতো, তবে নানা উপায়ে এসব ব্যাংক টিকিয়ে রাখা হয়েছে বলেছেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। দেশে ৪-৫টি ভালো ব্যাংক রয়েছে যারা ব্যাংকিং কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালন করছে। এসব ব্যাংক থেকে অন্যদের শিখতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের আজকের (বৃহস্পতিবার) দিনের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন মাহবুব উল্লাহ। রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের শেষ দিন আজ।
মাহবুব উল্লাহ বলেন, 'বাংলাদেশ একটি শোষণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই শোষণ কার জন্য? এই শোষণ সাধারণ জনগণের জন্য নয়; এই শোষণ স্বল্পসংখ্যক ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বা কোটিপতির জন্য, যাদের আমরা 'অলিগার্ক' বলি। এ দেশে এই অলিগার্কদের জন্ম দিয়েছে খোদ রাষ্ট্র নিজেই।'
তিনি বলেন, 'আমরা যদি বাজারের নিয়ম মেনে চলতাম, তবে এসব ব্যাংকের অধিকাংশই এত দিনে বিলুপ্ত হয়ে যেত। কিন্তু আমরা নানা উপায়ে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। এসব চেষ্টা ওই ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা আমার জানা নেই। এটি বাংলাদেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি।'
'তবে এই চরম আস্থার সংকটের মধ্যেও কিছু ব্যাংক ভালো করছে এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। হয়তো আমরা এই চার-পাঁচটি ব্যাংক থেকে শিখতে পারি যে এই খাতের ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী।'
জাতীয় অধ্যাপক আরও বলেন, 'অলিগার্কদের প্রশ্রয় না দিলে অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফেরানো যাবে না, এ ধারণা উৎসাহিত করা উচিত নয়। এবার অর্থনীতি লাইনচ্যুত হয়েছে, ভবিষ্যতে শুধু লাইনচ্যুত হবে না, হয়তো নদীতে গিয়ে পড়বে। তাই এ ধরনের মানুষদের বিষয়ে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।'
তিনি বলেন, 'বেসরকারি খাতের দিকে তাদের মনোযোগ নেই। এর ফলে বেসরকারি খাত ঋণবঞ্চিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বিশাল ঋণের বোঝা জমা হবে। সরকার কীভাবে সেই ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করবে তা আমার জানা নেই।'
মাহবুব উল্লাহ বলেন, 'আমরা শিল্পকারখানা বা ব্যাংকের বেসরকারীকরণের কথা বলি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ক্ষমতার শীর্ষে থাকা দেশের শাসকেরা এই রাষ্ট্রকে জনগণের রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করেননি। তারা রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা একটি সাম্রাজ্য মনে করেছেন, যেখান থেকে তারা তাদের নিজস্ব সমর্থক, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের অনুগ্রহ ও সুবিধা বিলিয়ে দিয়েছেন। এটাই মূল সমস্যা।'
অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.