আমরা শাসক নই সেবক : প্রধানমন্ত্রী

আমরা শাসক নই সেবক : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা বলেছিলাম, আমরা শাসক হতে চাই না, সেবক হতে চাই। সমাজের সেবক হয়ে কাজ করাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজসেবা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুজ্জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণাণয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, ভবঘুরেদের পুনর্বাসনসহ দরিদ্র পিতা-মাতার ভরণ-পোষণেও তার সরকার যুগোপযোগী আইন করেছে। প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাসহ নারী ও শিশুদের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এ দেশের মানুষ যেন খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয় ও বাসস্থান পায়। তার সেই লক্ষ্য পূরণে আমরা কাজ করছি। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর আমরা ৩৫ লাখ বৃদ্ধ মানুষকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা দিচ্ছি। ১২ লাখ বিধবা নারীকে ৫০০ টাকা করে বিধবা ভাতা, ৮ লাখ ২৫ হাজার প্রতিবন্ধীকে ৭০০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা, ৮ লাখ শিক্ষার্থীকে ৫০০ টাকা করে উপ-বৃত্তি প্রদান, ৮৬ হাজার ৪০০ এতিম শিশুকে ১০০০ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাবা মা বৃদ্ধ হলে এবং সন্তানরা রোজগার করা শিখলে অনেকে বাবা মা কে দেখেন না। এ জন্য আমরা আইন প্রণয়ন করেছি। শিশু আইন ২০১৩ প্রণয়ন করেছি। ৪১৯টি উপজেলায় হেলথ কমপ্লেক্স করেছি। এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষরা বিনা পয়সায় ৩০ প্রকার ওষুধ পাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের জরিপ চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা পাওয়া গেছে। প্রতিবন্ধীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে হিজড়াদের কোন লিঙ্গ ছিল না। আমরা তাদের লিঙ্গ ভুক্ত করেছি। এদের কোনো কাজ নেই। এদের ট্রেনিং দিয়ে কাজে লাগাতে হবে। এরা যেন সমাজে অবহেলার শিকার না হয় সে জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিবন্ধীরা যদি কাজ করে সুন্দর সুন্দর পণ্য তৈরী করতে পারে তাহলে হিজড়ারাও পারবে।

প্রধানমন্ত্রী দেশের জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থনৈতিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ দেশকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার সময় আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবো। এ জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।

Leave a Reply