দুই দশক পর লিভারপুলের মাঠে এভারটনের জয়

দুই দশক পর লিভারপুলের মাঠে এভারটনের জয়

দুই দশক পর প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে এভারটনের বিপক্ষে হারের তেতো স্বাদ পেল দলটি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আরও দীর্ঘ হলো তাদের দুঃসময়। ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে শনিবার ২-০ গোলে হেরেছে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। আসরে এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে হারল লিভারপুল।

তৃতীয় মিনিটেই গোল খেয়ে বসে লিভারপুল। হামেস রদ্রিগেসের থ্রু বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে ডান পায়ের নিচু শটে স্বদেশী গোলরক্ষক আলিসনকে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রিশার্লিসন।

২০তম মিনিটে সমতায় ফিরিতে পারত স্বাগতিকরা। ডি-বক্সের মাথা থেকে জর্ডান হেন্ডারসনের জোরালো ভলি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। একটু পর ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের শটে লাফিয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল পাঠান তিনি।

ম্যাচের আধা ঘণ্টা পেরুনোর আগেই আরেকটি বড় ধাক্কা খায় লিভারপুল। আবদুলাই দুকুরের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে আঘাত পাওয়ার পর মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার হেন্ডারসন। গত অক্টোবরে এভারটনের বিপক্ষেই পিকফোর্ডের ট্যাকলে আঘাত পেয়ে লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে পড়েছিলেন আরেক ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক।

৩৩তম মিনিটে দ্বিগুণ হতে পারত সফরকারীদের ব্যবধান। লুকাস দিনিয়ের ক্রসে ছয় গজ বক্সের সামনে থেকে সিমাস কোলম্যানের জোরালো হেড ফিরিয়ে দেন আলিসন।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণে আধিপত্য ছিল লিভারপুলের। ৬৮তম মিনিটে জেরদান শাচিরির পাস ধরে মোহামেদ সালাহর শট এগিয়ে এসে রুখে দেন পিকফোর্ড। ৮৩তম মিনিটে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়। সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা সিগুর্দসন। ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইনের শট প্রথমে ঠেকান আলিসন, কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এভারটন ফরোয়ার্ডকে তিনি ফাউল করে বসলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি লিভারপুল। গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে লাইপজিগকে ২-০ গোলে হারিয়ে ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছিল দলটি। কিন্তু লিগে ফিরেই আবার মুখ থুবড়ে পুড়ল তারা।

২৫ ম্যাচে সপ্তম হারের স্বাদ পাওয়া লিভারপুল ৪০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে। এক ম্যাচ কম খেলে ১২ জয় ও চার ড্রয়ে সমান পয়েন্ট নিয়ে সাতে আছে এভারটন। চেলসি ২৫ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে। ২৪ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। সমান ৪৬ পয়েন্ট করে নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দুইয়ে ও লেস্টার সিটি তিনে আছে।

Leave a Reply