অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ফেসবুকের বিরোধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ফেসবুকের বিরোধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত

মিডিয়া কোম্পানির সঙ্গে রাজস্ব শেয়ারসংক্রান্ত আইন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ফেসবুকের মধ্যকার দ্বন্দ্ব দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টির সুরাহা এখন সরকারের হাতে। এছাড়া তারা সংবাদ শেয়ার বন্ধ করতে গিয়ে যে জরুরি সেবা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সাইটও ব্লক করে দিয়েছে, সেটি খুলতেও সপ্তাহখানেক লেগে যাবে। এ নিয়ে সরাসরি ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছে সরকার। যদিও গতকালের আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

স্থানীয় মিডিয়া কোম্পানিগুলোর সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির বাধ্যবাধকতা রেখে গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে একটি বিল পাস করেছে অস্ট্রেলিয়া। ‘নিউজ মিডিয়া বার্গেনিং কোড’ শীর্ষক এ আইনের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার নিউজফিডে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর শেয়ার বন্ধ করে দেয় ফেসবুক।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি ব্যবহারকারীর নিউজফিড থেকে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায়। তবে সেই সঙ্গে আবহাওয়া দপ্তর, আত্মহত্যা প্রতিরোধ দপ্তর, দমকল বাহিনীসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বেশ কয়েকটি দাতব্য সংস্থার কনটেন্টও ব্লক করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে-বাইরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ফেসবুকের এ পদক্ষেপকে ‘করপোরেট ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলেও অভিহিত করেন অনেকে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ফেসবুকের এশিয়া-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জননীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইমন মিলনার বলেন, এটা সত্যি একটা কঠিন কাজ, কিন্তু আমাদের তা করতে হয়েছে। আমরা এমন কাজ এর আগে কখনো করিনি। এটি করতে গিয়ে আমরা কিছু ভুলও করেছি, এর জন্য দুঃখিত।

ফেসবুকের নিউজফিডে সংবাদমাধ্যমের খবর দ্রুত ফিরে আসার সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেননি সাইমন। তবে তিনি বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত এখন অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্র সরকারের হাতে। যেখানে এ সপ্তাহেই সরকার বার্গেনিং কোড আইনে পরিণত করবে।

মিলনার বলেন, এখনো এমন কিছু ফ্যানপেজ আছে যেগুলোকে এ আইনের আওতায় চিহ্নিত করা খুব কঠিন। কারণ আইনটি স্পষ্ট নয়। এ কারণেই এমন কিছু পেজ ব্লক হয়েছে যেগুলো আসলে সংবাদ সম্পর্কিত নয় কিন্তু এ নতুন আইনের আওতায় সেটিকে ওই রকমই বোঝায়। এটা আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আমরা এ ভুলের জন্য দুঃখিত।

এদিকে গতকাল সকালে অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জশ ফ্রাইডেনবার্গ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নয়া আইন নিয়ে ফেসবুকের উদ্বেগের বিষয়ে মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। উভয় পক্ষের জন্য সুবিধাজনক একটি সমাধান তারা খোঁজার চেষ্টা করছেন। আগামী উইকেন্ডে তারা এ নিয়ে আবার কথা বলতে সম্মত হয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

Leave a Reply