সমুদ্র সম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

সমুদ্র সম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এলে সমুদ্রসীমার ওপর যে আমাদের অধিকার আছে সেটি কখনই প্রতিষ্ঠিত হতো না। আমরা এখন যে সমুদ্রসীমা পেয়েছি, সেই সমুদ্র সম্পদ অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছি। বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা সাগর। বিশ্বের অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য এখান থেকে চলাচল করে। সেদিক থেকে এখানে আমাদের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকে লক্ষ্য রেখে সমুদ্র সম্পদকে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই।

আজ রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যেম কোস্টগার্ডের ৯টি জাহাজ ও একটি ঘাঁটির কমিশনিং অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় দেশের জলসীমায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাতে কোস্ট গার্ডের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। এই বাহিনীর উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার একথা উল্লেখ করে দেশপ্রেম ও সততার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ’৯৬ সালে সরকারে আসার পর থেকেই কোস্টগার্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করি। ২০০৯ সাল থেকে আমরা আরও ব্যাপকভাবে উন্নয়নে কাজ করি। ২৭টি কোস্টাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ ৫৫টি অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। গত ১২ বছরে কোস্টগার্ডের জন্য বিভিন্ন আকারে ৫৫টি জাহাজ ও জলযান নির্মাণ করা হয়েছে। নিজস্ব প্রশিক্ষণ বেস নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা আমাদের কোস্টগার্ডকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে চাই।

নতুন এ ১০টি নৌযান যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে কোস্টগার্ড আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে জানান শেখ হাসিনা। বিভিন্ন জলযান ও যুদ্ধ জাহাজ এখন বাংলাদেশেই তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী বড় সমস্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। এ সময় আমাদের সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তবে অর্থনীতি যেন থমকে না যায় এবং মানুষের জীবন যেন সচল থাকে; সে জন্য সরকার সব ব্যবস্থা করেছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের সঙ্গেই আমাদের চলতে হবে। তাই আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতিও থাকতে হবে।

আজকে যুক্ত হওয়া ১০টি নৌযানের মধ্যে পাঁচটি দেশের নারায়ণগঞ্জ ডক ইয়ার্ড ও খুলনা শিপ ইয়ার্ডে তৈরি করা হয়েছে। কমিশন হওয়া নৌযানগুলো হলো- দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল (ওপিভি) বিসিজিএস মনসুর আলী ও বিসিজিএস কামরুজ্জামান, পাঁচটি ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি) বিসিজিএস সবুজ বাংলা, বিসিজিএস শ্যামল বাংলা, বিসিজিএস সোনার বাংলা, বিসিজিএস অপারেজয় বাংলা ও বিসিজিএস স্বাধীন বাংলা, দুটি ফাস্ট প্যাট্রোল বোট (এফপিভি) বিসিজিএস সোনাদিয়া ও বিসিজিএস কুতুবদিয়া এবং বিসিজি বেইজ ভোলা।

কমিশনিং অনুষ্ঠানে গণভবন ছাড়াও চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কোস্টগার্ড বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply