দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজ এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) গৃহহীন মানুষকে ঘর উপহার দেওয়ার সচিবদের কর্মসূচি উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে গৃহহীন ১৬০টি পরিবারের জন্য ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন সচিবরা।

গণভবন থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি যারা আমাদের বিত্তশালী তারা যদি একটু যার নিজ নিজ এলাকায় প্রত্যেকেই যদি অন্তত কিছু দুস্থ পরিবারের দিকে ফিরে তাকায়। কাউকে একটা ঘর করে দিলে, তাদের কিছু কাজের ব্যবস্থা করে দিল। তাদের একটু সহযোগিতা করল। শুধু নিজে ভাল থাকব। নিজে সুন্দর থাকব। নিজে আরাম আয়েশে থাকব- আর আমার দেশের মানুষ, আমার এলাকার মানুষ তারা কষ্টে থাকবে, এটা তো মানবতা না, এটা তো হয় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর দেশ চলে গিয়েছিল খুনিদের দখলে। তখন দুঃখ দুর্দশা শুরু হয়েছিলো জনগণের। ঢাকার বস্তিবাসীদের নিজেদের যার যার গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা হবে। সকলকে সুন্দরভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেবে সরকার। খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে দেশের কোনো জমি অনাবাদি রাখা যাবে না। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, যদিও করোনাভাইরাসের কারণে অনেকের কাজ থমকে গেছে। তার পরও আপনারা দেখেছেন, আমরা কিন্তু বসে নেই। এ করোনাভাইরাসের মধ্যেও আমরা একেবারে গ্রাম পর্যায়ের মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টাও করে যাচ্ছি।

মুজিববর্ষে নিজস্ব অর্থায়নে গৃহহীনদের ঘর উপহার জন্য সংশ্লিষ্ট সচিবদের প্রতি ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা এ চিন্তাভাবনা থেকে দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আজকে যে মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন, একটা ঘর করে দিয়েছেন। এটি একটি মহৎ কাজ আপনারা করেছেন।

ভবিষ্যতেও এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করব।

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

Leave a Reply