রিয়াল মাদ্রিদের স্বস্তির ড্র

রিয়াল মাদ্রিদের স্বস্তির ড্র

তিন দিন আগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ক্লাসিকো জেতা রিয়াল মাদ্রিদ যেন হঠাৎ করেই পথ হারিয়ে ফেলেছিল। অধিকাংশ সময় প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখলেও তাদের আক্রমণগুলো ছিল ধারহীন। উল্টো দুই গোল খেয়ে পড়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দ্বিতীয় হারের শঙ্কায়। সেখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল জিনেদিন জিদানের দল। ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুবার জালে বল পাঠিয়ে বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের মাঠ থেকে স্বস্তির ড্র নিয়ে ফিরেছে প্রতিযোগিতার রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। মঙ্গলবার রাতে ‘বি’ গ্রুপের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে রিয়াল। ভালো কয়েকটি সুযোগও তৈরি করেছিল তারা, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ১৬ মিনিটে লুকাস ভাসকেসের উঁচু করে বাড়ানো বল বুক দিয়ে নামিয়ে পাশের জালে মারেন বেনজেমা। ২৯তম মিনিটে টনি ক্রুসের জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান স্বাগতিক গোলরক্ষক।

খেলার ধারার বিপরীতে ৩৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় মনশেনগ্লাডবাখ। নিজেদের সীমানায় বল ক্লিয়ার করার অনেকটা সময় পেয়েও পারেননি রাফায়েল ভারানে ও সের্হিও রামোসরা। ডান দিক থেকে সতীর্থের কোনাকুনি পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড থুরাম।

পাঁচ মিনিট পর আরেকটি সুযোগ নষ্ট হয় রিয়ালের। ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে মার্কো আসেনসিওর নেওয়া কোনাকুনি শট দুই হাত উঁচু করে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক ইয়ান সমের।

বিরতির পর প্রথম মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারতো রিয়াল। তবে আসেনসিওর শট একজনের পায়ে লেগে ক্রসবারে বাধা পায়। তিন মিনিট পর আট গজ দূর থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন অরক্ষিত ভিনিসিউস জুনিয়র। ৫৮তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে রিয়ালকে চমকে দেয় মনশেনগ্লাডবাখ। এই গোলেও জড়িয়ে আছে প্রথম গোলে অবদান রাখা ফরাসি ফরোয়ার্ড আলেসান প্লার নাম। তার নিচু শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়েছিলেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া; কিন্তু বিপদমুক্ত করতে পারেননি। আলগা বল গোলমুখে পেয়ে জালে ঠেলে দেন থুরাম।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে যেন দিক হারিয়ে ফেলে রিয়াল, চাপ বাড়ায় মনশেনগ্লাডবাখ। ৬১তম মিনিটে ভারানেকে পেছনে ফেলে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন প্লা, কিন্তু তার শট পা দিয়ে রুখে দেন কোর্তোয়া। চার মিনিট পর জার্মান মিডফিল্ডার লার্স স্টিন্ডলের কোনাকুনি শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে আবারও বেঁচে যায় সফরকারীরা।

ভিনিসিউসের বদলি নামা এদেন আজার ৭৩তম মিনিটে দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন, ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে শট নেন পাশের জালে। শেষ দিকে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠা রিয়াল সাফল্য পায় ৮৭তম মিনিটে। ডান দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রস চলে যাচ্ছিল বাইরে, বাইলাইন থেকে হেডে কাসেমিরো বল বাড়ান ছয় গজ বক্সে। অনেকটা বাইসাইকেল কিকের ভঙ্গিমায় ব্যবধান কমান বেনজেমা।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ডান দিক থেকে লুকা মদ্রিচের ক্রসে হেডে রামোস বল বাড়ান পাশে কাসোমিরোকে। কাছ থেকে প্রথম টোকায় সমতা টানেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার।

Leave a Reply