রিফাত হত্যা: ১৪ আসামির রায়কে ঘিরে আদালতে তিন স্তরের নিরাপত্তা

রিফাত হত্যা: ১৪ আসামির রায়কে ঘিরে আদালতে তিন স্তরের নিরাপত্তা

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির রায় ঘোষণা হবে আজ। বরগুনা শিশু আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমানের এ রায় ঘোষণা করবেন।
এ উপলক্ষে বরগুনার আদালত প্রাঙ্গণ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে আদালতে প্রবেশ করতে হচ্ছে বিচারপ্রার্থীসহ সাংবাদিকদের।

আদালত প্রাঙ্গনে দেখা গেছে, আদালত প্রাঙ্গণ ও প্রবেশপথে কড়া পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। এরইমধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবীও হাজির হয়েছেন আদালতে। আদালতের ভেতরে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। আদালতের ভিতরে সবাইকে তল্লাশি করে প্রবেশ করানো হচ্ছে।

বরগুনার অতিরিক্ত এসপি (হেডকোয়াটার্স) মহরম আলী বলেন, মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতের আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা করাগারে থাকা এ মামলার ৬ আসামিকে যথা সময়ে আদালতে হাজির করা হবে।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। ৭৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মোট ৬৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষে গত ১৪ অক্টোবর বরগুনা শিশু আদালত এ মামমলার রায়ের দিন ধার্য করেন। মামলা ১৪ আসামির মধ্যে ৭ আসামির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নিসহ ৬ প্রাপ্ত বয়স্ক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৪ আসামিকে মুক্তি দেয় বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আছাদুজ্জামান।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), হাসান (১৯), আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। ওই হত্যাকান্ড সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিশোর গ্যাং বন্ড বাহিনী প্রকাশ্যে শাহনেওয়াজ রিফাতকে (রিফাত শরীফ) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

Leave a Reply