দুই বোনকে গুলশানের বাড়িতে প্রবেশসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

দুই বোনকে গুলশানের বাড়িতে প্রবেশসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

হতভাগ্য এ দুই বোন মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশশারা মোস্তফাকে রাজধানীর গুলশানে তাদের বাড়িতে প্রবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেল সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ সন্ধ্যায় এ নির্দেশ দেন।

সুপ্রিমকোর্টের মুখপত্র ও বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বাসস’কে আজ এ কথা জানান। তিনি বলেন, গতকাল ২৫ অক্টোবর দৈনিক সমকাল, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা, যমুনা টিভি এবং আজ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত এবং প্রচারিত সংবাদ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন আদালত।

সুপ্রিমকোর্ট মুখপত্র জানান, আজ সন্ধ্যা সেয়া ৭ টায় আদালত এক আদেশে দুই বোন মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশশারা মোস্তফাকে (উভয়ের পিতা মৃত মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ) পুলিশ প্রহরায় অনতিবিলম্বে তাদের গুলশান ২ নম্বরে ৯৫ নম্বর রোডের ৪ নম্বর হোল্ডিং এর বাড়ীতে প্রবেশের ব্যবস্থা করার জন্য গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।

আদেশে আজ ২৬ অক্টোবর থেকে আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত গুলশানে ওই বাড়ীর সামনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতেয়েন করে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণেও গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। আদেশে আদালত আগামী ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় গুলশান থানার ওসিকে দুই বোন মুশফিকা ও মোবাশশারা এবং অনুজ কাপুরকে নিয়ে আদালতে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আদলতে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করতেও বলা হয়েছে।

আজকে দেয়া আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে গুলশান থানার ওসি সুপ্রিমকোর্টের মুখপত্র ও বিশেষ কর্মকর্তাকে টেলিফোনে অবহিত করবেন।

আজ হাইকোর্টের এ বেঞ্চে দেয়া নির্দেশেনা গুলশান থানার ওসিকে ইতোমধ্যে অবহিত করেছেন বলে জানান সুপ্রিমকোর্টের মুখপত্র ও বিশেষ কর্মকর্তা।

“বাবার বাড়িতে ঢুকতে না পেরে রাস্তায় দুই বোন”- শীর্ষক প্রতিবেদন বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে ১০ কাঠা জমির ওপর তিনতলা বাড়ি। দুই বোনের শৈশবের সব স্মৃতিচিহ্ন সেখানে। ওই বাড়িতেই বেড়ে উঠেছেন তারা। মা-বাবার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কতশত স্মৃতি। তবে বাবার মৃত্যুর পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। যে বাড়ির প্রতিটি আঙিনা তাদের চেনা, সেটাই এখন অনেক দূরের। বাবার বাড়িতেই ঢুকতে বাধার মুখে পড়ছেন তারা। হতভাগ্য এ দুই বোন হলেন মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশশারা মোস্তফা। মোবাশশারা দীর্ঘদিন স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। আর মুশফিকা ঢাকায় তার মায়ের সঙ্গে আলাদা বাসায় থাকেন। গত ১০ অক্টোবর দুই বোনের বাবা মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের মৃত্যু হয়। সে থেকে দুই বোনকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন অনজু কাপুর নামের এক নারী। সর্বশেষ গত শনিবারও তারা সেখানে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। ওই নারী তাদের বলছেন, ‘এই বাড়িতে তোমাদের কোনো অধিকার নেই। এই বাড়িতে তোমাদের ঢুকতে দেয়া হবে না। ঢুকতে হলে তোমাদের চাচা ফেরদৌস ওয়াহিদ ও আইনজীবীর অনুমতি লাগবে।’

শুধু তাই নয়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অনুজ কাপুর পুলিশ তলব করেন। এরপর গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ওই বাড়ির সামনে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ দুই বোনকে জানায়, ‘আইনগতভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেন। এখন বাড়ির সামনে থেকে চলে যান।’ এরপরও বাবার বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন দুই বোন।

Leave a Reply