রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন।

বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের নেতা হিসেবে শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যূত ১১ লাখেরও বেশি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও এখনও ফেরত নেয়নি।

তিনি বলেন, এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।

কোভিড-১৯ মহামারীরা কারণে সরাসরি না গিয়ে ভার্চুয়ালি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া এবারের ভাষণে আগের মতোই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশের সমর্থন তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের বন্ধুত্বের পররাষ্ট্র নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়- এই নীতিবাক্য আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূলমন্ত্র। এ মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং শান্তির সংস্কৃতি বিনির্মাণে নিয়মিত অবদান রেখে চলেছে।”

বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর জাতিগত নিপীড়ন চলে আসছে কয়েক দশক ধরে। বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার মুখে সেখান থেকে পালিয়ে এসে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে ছিল। ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরুর পর দমন-পীড়নের মুখে আরও ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার তার দেশের এই নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। রাখাইনে নিরাপদে বসবাসের নিশ্চয়তা না পেলে মিয়ানমার ফিরতে চাইছেন না তারা।

Leave a Reply