পদ্মাসেতুর রেললাইনের নকশা সংশোধনে অর্থ-সময় বাড়ার শঙ্কা নেই

পদ্মাসেতুর রেললাইনের নকশা সংশোধনে অর্থ-সময় বাড়ার শঙ্কা নেই

পদ্মা সেতুর রেলসংযোগ প্রকল্পের ডিজাইনের ত্রুটিতে সেতু দিয়ে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় নকশা সংশোধনের উদ‌্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রেলপথ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী সপ্তাহ নাগাদ সংশোধিত নকশা পাওয়া যেতে পারে। তবে, এতে নির্মাণব্যয় ও সময় বাড়বে না বলে মনে করছেন তারা।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা বলেন, ‘কয়েকমাস আগে পদ্মাসেতুর রেললাইনের ডিজাইনে ত্রুটির বিষয় আলোচনায় আসে। এরপর প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নকশা পরিবর্তনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আগামী সপ্তাহে সংশোধিত নকশা পাওয়ার কথা। এরপর এই বিষয়ে করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হবে।’

তবে, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘অনুমোদিত প্রকল্পের সামান্য পরিবর্তন এনেই এই সমস‌্যার সমাধান সম্ভব। এতে সময় ও অর্থ ব্যয় কোনোটিই বাড়বে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাজিরা প্রান্তে রেললাইনের ২৫ (১) ও ২৫ (২) নম্বর খুঁটির নকশা কিছুটা পরিবর্তন করলেই আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল পদ্মাসেতু হচ্ছে দ্বিতল। এর মধ্যে নিচতলায় চলবে ট্রেন। ওপরে চার লেনের সড়কে চলবে গাড়ি। সেতুতে গাড়ি প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য থাকছে আলাদা রাস্তা।

ট্রেনগুলো গাড়ি প্রবেশের রাস্তার ওপর দিয়ে গিয়ে তারপর সেতুতে উঠবে। এমন নকশাতেই পদ্মা বহুমুখী সেতু ও রেল সংযোগ নির্মাণ করা হচ্ছে পৃথক দুটি প্রকল্পে। সেতুর নির্মাণকাজ ঠিক থাকলেও ত্রুটি দেখা দেয় রেললাইন নির্মাণে। গাড়ি প্রবেশের রাস্তার ওপর দিয়ে রেলপথটি প্রয়োজনীয় উচ্চতায় বানানো হচ্ছে না। উচ্চতা কম হওয়ায় গাড়ি চললে সেটি ওপরে থাকা রেলপথের ভায়াডাক্টের (সেতু থেকে সড়ক পর্যন্ত উড়াল রেললাইন) সঙ্গে আটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে সেতু কর্তৃপক্ষ। আপত্তির মুখে সংশোধন করা হচ্ছে রেললাইনের নকশা।

তবে, সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, পদ্মাসেতুর মাওয়া ও জাজিরা—দুই প্রান্তেই রয়েছে এমন সমস্যা। অথচ রেলওয়ে বলছে, দুই প্রান্ত নয়, শুধু জাজিরা প্রান্তে প্রবেশের ক্ষেত্রেই রেললাইনের ভায়াডাক্টের উচ্চতা প্রয়োজনের চেয়ে কম রয়েছে।

সাধারণত একটি রাস্তার ওপর দিয়ে আরেকটি রাস্তা বানানো হলে উচ্চতায় দুই রাস্তার মধ্যবর্তী দূরত্ব ৬ মিটার রাখতে হয়। পাশাপাশি যদি দুটি পিলার থাকে, তাহলে দুই পিলারের মধ্যখানে অন্তত সাড়ে ১৫ মিটার জায়গা ফাঁকা রাখতে হয়। কিন্তু পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের নকশা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যে স্থানে রেললাইনটি সড়কের ওপর দিয়ে গেছে, সে স্থানে উচ্চতায় সড়ক আর রেলপথের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৫ দশমিক ৫১ মিটার। আর দুই পিলারের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৯ দশমিক ৬৫ মিটার। এমন অবস্থায় সেখানে বড় গাড়ি আটকে যাবে বলে জানিয়েছেন তারা।

এই বিষয়ে গত ১৯ জুলাই পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঠিকাদারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঠিকাদার। নকশা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ করেও দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন হচ্ছে।

Leave a Reply