অনুরাগের পাশে দাড়ালেন দুই অভিনেত্রী

অনুরাগের পাশে দাড়ালেন দুই অভিনেত্রী

যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও দুই নায়িকাকে পাশে পেলেন অনুরাগ কাশ্যপ। কারণ তারাও মনে করেন, এই নির্মাতাকে চুপ করানোর চেষ্টা চলছে।

খোলাখুলিভাবে অনুরাগকে সমর্থন করেছেন তাপসী পান্নু। তিনি জানান, অনুরাগের চেয়ে বড় কোনো নারীবাদীকে চেনেন না।

দেব ডি, মনমর্জিয়াঁ, দ্য গার্ল ইন দ্য ইয়েলো বুটস-এর মতো ছবিতে নারীচরিত্রকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন অনুরাগ। নারীর সমানাধিকার নিয়েও বরাবর সরব তিনি।

শনিবার বাঙালি অভিনেত্রী পায়েল ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনার পর থেকে অনুরাগের সেই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে বসেছে। তাকে নিয়ে নানারকমের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও শুরু হয়।

এমন পরিস্থিতিতে রবিবার সকালে ইনস্টাগ্রামে অনুরাগের সমর্থনে মুখ খোলেন তাপসী। অনুরাগের সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘‘বন্ধু, আমি যাদের চিনি, তাদের মধ্যে তুমিই সবচেয়ে বড় নারীবাদী। খুব শিগগিরই সেটে তোমার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তোমার তৈরি দুনিয়ায় নারীরা কতটা শক্তিশালী, তাদের কী গুরুত্ব, তা তোমার শিল্পকর্মই বুঝিয়ে দেয়।’’

অনুরাগের সমর্থনে টুইটারে মুখ খোলেন স্বরা ভাস্করও। নির্মাতার একটি টুইট রিটুইট করেন তিনি। তাতে বলা হয়, ‘‘আরও আক্রমণ আসবে। এই তো সবে শুরু। ইতিমধ্যেই অনেক ফোন আসতে শুরু করেছে। চুপ করে যেতে বলছেন। কোত্থেকে তীর ছুটে আসবে, তা যে বুঝতেও পারব না, সে কথাও বিলক্ষণ জানি। অপেক্ষায় রয়েছি।’’

পরিণতির ভয়ে নিজের মতামত জানাবেন না, তা কখনো হতে পারে না বলে একবার একটি অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছিলেন অনুরাগ। সেটিও টুইটারে তুলে ধরেন স্বরা। তিনি লেখেন, ‘‘দেখো পরিণতি এসেই গেল।’’

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুতে অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত যখন গোটা বলিউডকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন, সেই সময় অনুরাগ কশ্যপের পাশাপাশি তাপসী ও স্বরা, দুজনেই কঙ্গনার বিরুদ্ধে সরব হন। তার জন্য তাদেরও বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি কঙ্গনা। যৌন হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে গতকালই অনুরাগের গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন তিনি।

প্রশ্ন উঠছিল, নিজেদের নারীবাদী বলে দাবি করেন অথচ অনুরাগের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না তাপসী ও স্বরা। কেউ কেউ তাদের ‘মুখোশধারী’ বলেও কটাক্ষ করেন। কিন্তু তারা অনুরাগকেই সমর্থন করলেন।

পায়েল শনিবার রাতে টুইট করেন, “অনুরাগ কাশ্যপ খুব খারাপভাবে, জোর করে আমার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে চেয়েছে। নরেন্দ্র মোদিজি, দয়া করে কিছু করুন। লোকে জানতে পারুক শিল্পী সত্তার আড়ালে কোন রাক্ষস লুকিয়ে। জানি আমার ক্ষতি হতে পারে। আমার নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে। প্লিজ সাহায্য করুন!”

সেই টুইট শেয়ার করে কঙ্গনা ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনুরাগের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।

পাল্টা টুইট করেছেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপও। মুখ বন্ধ করাতেই পায়েল এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বলেই দাবি তার।

অনুরাগ লেখেন, ‘‘দারুণ ব্যাপার যে আমাকে চুপ করানোর চেষ্টা করতে এত সময় লেগে গেল। সে না হয় ঠিক আছে। কিন্তু আমাকে চুপ করানোর জন্য এত মিথ্যা বলতে হচ্ছিল যে নারী হয়ে অন্য এক নারীকে সেই মিথ্যায় শামিল করতে হলো। ম্যাডাম, অন্তত একটু শালীনতা বজায় রাখুন। আমি শুধু এইটুকুই বলব যে, যা যা অভিযোগ আনা হয়েছে, সব ভিত্তিহীন। আমাকে কালিমালিপ্ত করতে গিয়ে আমার কলাকুশলী, এমনকি বচ্চন পরিবারকে টেনে আনাটা মোটেই বুদ্ধির কাজ হয়নি।’’

অনুরাগ আরও লেখেন, ‘‘হ্যাঁ, দুবার বিয়ে করেছি আমি। তা যদি অপরাধ হয়, তাহলে অপরাধ স্বীকার করছি। অনেকবার প্রেমেও পড়েছি, তাও মেনে নিচ্ছি। কিন্তু আমার প্রথম স্ত্রী হোন বা দ্বিতীয়, প্রেমিকা অথবা কোনো অভিনেত্রী, যে নারীদের নিয়ে কাজ করি তারা অথবা অন্য যে কোনো নারী, যার সঙ্গে নিভৃতে দেখা হয় বা জনসমক্ষে, কখনো কারো সঙ্গে অশালীন আচরণ করিনি এবং এই ধরনের আচরণ কোনোভাবে সমর্থনও করি না। এর পর যাই হোক না কেন, শেষ দেখে ছাড়ব।’’

এমনিতে অনুরাগ ঘোষিতভাবেই মোদি-বিরোধী। প্রকাশ্যেই তিনি মোদি সরকার ও বিজেপির নানাবিধ সমালোচনা করে থাকেন। সে কারণে পায়েল তার পোস্টে প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করায় কেউ কেউ ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। অনুরাগের প্রতিষ্ঠান ‘ফ্যান্টম ফিল্ম’-এর এক সহযোগীর বিরুদ্ধে একটা সময়ে ‘মি টু’র অভিযোগ ওঠে। পরে সেই সংস্থা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন অনুরাগ। সেই বন্ধ হওয়ার পেছনে বলিউডের একাংশ ‘রাজনীতি’কেই ‘দায়ী’ করেছিল।

Leave a Reply