অস্ত্র মামলায় পাপিয়া-সুমনের আত্মপক্ষ সমর্থন কাল

অস্ত্র মামলায় পাপিয়া-সুমনের আত্মপক্ষ সমর্থন কাল

অস্ত্র আইনের মামলায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হবে আগামীকাল বুধবার।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরের এক নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এই দিন ঠিক করে দেন।
এ মামলার তৃতীয় তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব সদরদপ্তরে দায়িত্বরত এসআই আরিফুজ্জামান এদিন আদালতে সাক্ষ্য দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু এবং তাপস পাল।
অন্যদিকে দুই আসামির পক্ষে সাক্ষীকে জেরা করেন আইনজীবী আবু ফাতেহ মো. গোলাম ফাত্তাহ ও সাখাওয়াতউল্লাহ ভূঁইয়া।
আইনজীবী গোলাম ফাত্তাহ পরে বলেন, ‘তিনজন আইওসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হল। মামলাটি খুব দ্রুত সময়ে শেষ হচ্ছে। আগামীকাল আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে।’
এই বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ গত ২৩ অগাস্ট পাপিয়া-সুমন দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তাদের বিচার শুরুর আদেশ দেন। সে অনুযায়ী, ৩১ অগাস্ট থেকে শুরু হয় মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ।
নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু মুদ্রা এবং দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।
পরে পাপিয়ার ফার্মগেইটের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০টি গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। অভিযান চালানো হয় পাপিয়ার নরসিংদীর বাড়িতেও ।
র‌্যাবের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, পাপিয়া গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেল ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালিয়ে যে আয় করতেন, তা দিয়ে হোটেলে বিল দিতেন কোটির টাকার উপরে।
গ্রেফতারের পর পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করে র‌্যাব। বিমানবন্দর থানায়ও তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আর মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে সিআইডি আরেকটি মামলা করে। এরপর দুদকও পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে।
এর মধ্যে শেরেবাংলা নগর থানার অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় গত ২৯ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন র‌্যাবের দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক আরিফুজ্জামান। এর মধ্যে অস্ত্র আইনের মামলাটি বিচারের শেষ দিকে চলে এলো।

Leave a Reply