‘বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে ভারত সবসময় প্রস্তুত’

‘বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে ভারত সবসময় প্রস্তুত’

বাংলাদেশের প্রত্নস্থল, জাদুঘরসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে ভারত সবসময় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে রীভা গাঙ্গুলি বলেন, প্রশিক্ষণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপ প্রভৃতি আয়োজনের মাধ্যমেও বিভিন্ন সহযোগিতা করতে ভারত প্রস্তুত এবং করোনা ভাইরাস মহামারির এই সময়ে অনলাইনে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন হতে পারে।
বিদায়ী হাইকমিশনার বলেন, ভারতীয় অনুদানে রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ির অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। মূল স্থাপনার বাইরে ভারতীয় অর্থে নির্মিত হচ্ছে উন্নতমানের রেস্ট হাউস, আধুনিক লাইব্রেরি ও ক্যাফেটেরিয়া কাম ডকুমেন্টেশন সেন্টার, উন্মুক্ত মঞ্চসহ আরও কয়েকটি কাজ। এটি সমাপ্ত হলে কুঠিবাড়ির চিত্র বদলে যাবে।
প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করে রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা অনলাইনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহার করে পানামা সিটি সংরক্ষণে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল মতামত দিয়েছে বলেও এসময় জানান তিনি।
সাক্ষাতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, ঐতিহাসিক পানামা সিটি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ভারতের একদল বিশেষজ্ঞ সম্প্রতি পানামা সিটি পরিদর্শন করে গেছে এবং আমরা তাদের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি। প্রতিবেদন পেলে এর ওপর ভিত্তি করে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে চাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত এক অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশীদার। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ১১ হাজার ভারতীয় সৈন্য শহীদ হয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর শহীদদের অবদান স্মরণে বাংলাদেশ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে।
সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বিদায়ী হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (ASEAN) হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য রীভা গাঙ্গুলিকে তিনি অভিনন্দন এবং শুভকামনা জানান।
সাক্ষাতে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল সংরক্ষণ ও জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় ভারতের সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য) সাবিহা পারভীন, যুগ্মসচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply