টিকটক ‘চুরি’ করতে চায় আমেরিকা, কঠোর হুঁশিয়ারি বেইজিংয়ের

টিকটক ‘চুরি’ করতে চায় আমেরিকা, কঠোর হুঁশিয়ারি বেইজিংয়ের

টিকটকের মালিকানা নিয়ে ফের মুখোমুখি চীন-আমেরিকা। চীনের দাবি, আমেরিকা টিকটক কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করছে সংস্থার মালিকানা বিক্রি করতে। অনিচ্ছা সত্বেও মার্কিন সংস্থার মাইক্রোসফটের কাছে মালিকানা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে টিকটকের নির্মাতা চীনা সংস্থা বাইটডান্স। আমেরিকার এই ‘চুরি’ কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।

বেইজিং বলেছে, ‘কোনো প্রযুক্তি কম্পানির চুরি হয়ে যাওয়া মেনে নেবে না চীন এবং সংক্ষিপ্ত ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকের মালিকানা মার্কিন সংস্থা মাইক্রোসফটের কাছে বিক্রি করে দিতে বাইটড্যান্সের ওপর ওয়াশিংটন যে চাপ দিচ্ছে বেইজিং তার জবাব দিতে সক্ষম।’ মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পত্রিকা চায়না ডেইলির এক সম্পাদকীয়তে এই হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের অন্তঃসারশূন্য ‘আমেরিকা প্রথম’ দর্শনের পরিণতিতে চীনা প্রযুক্তি কম্পানিগুলোকে ভয় দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রযুক্তির রাজ্যে নতি শিকার অথবা মারণ লড়াই ছাড়া চীনের আর কোনো পথ খোলা নেই।

চীনের আরেক সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস বলছে, আমেরিকার সরকার যেভাবে বাইটডান্সের উপর চাপ সৃষ্টি করছে, সেটা আসলে চুরির শামিল। আর শুধু বাইটডান্স নয়, হুয়াওয়ের মতো অন্য চীনা সংস্থার সঙ্গেও নিন্দনীয় আচরণ করছে মার্কিন প্রশাসন। বাইটডান্স এবং হুয়াওয়ের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করে আসলে আমেরিকা বুঝিয়ে দিয়েছে, চীনের সঙ্গে কোনোরকম আর্থিক সম্পর্ক তারা রাখতে চায় না। চীন সরকার চাইলেই এর ‘বদলা’ নিতে পারে। আগে আমেরিকা প্রযুক্তির দিক থেকে চীনের থেকে অনেকটা এগিয়ে ছিল, তাই চাইলেও প্রতিবাদ করা সম্ভব হত না। এখন চীন বিশ্বের কাছে প্রযুক্তির দরজা খুলে দিয়েছে। আমাদের কাছে এর প্রতিবাদ করার বহু রাস্তা আছে।

চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের এই হুঁশিয়ারি বস্তুত, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের আরও অবনতির ইঙ্গিত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টিকটক নিষিদ্ধের পরিকল্পনা বাতিল করে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ৪৫ দিনের সময় বেঁধে দেন। এরপর সোমবার মাইক্রোসফট করপোরেশন জানায়, তারা টিকটকের অংশ কিনতে বাইটড্যান্সের সঙ্গে আলোচনা করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত কয়েকদিন ধরে বলেছেন, চীন সরকারকে ব্যবহারকারীদের তথ্য দেয়া চীনা সফটওয়্যার কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

সূত্র: রয়টার্স।

Leave a Reply