আরো ৩০ মৃত্যু, শনাক্ত ১,৩৫৬

আরো ৩০ মৃত্যু, শনাক্ত ১,৩৫৬

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৫৬ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ১৮৪ জন। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন দুই লাখ ৪২ হাজার ১০২ জন।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আজ সোমবার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁরা ২৫ জন পুরুষ এবং পাঁচজন নারী। এঁদের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে চারজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ১৮৪ জনের।

এ পর্যন্ত যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের মধ্যে পুরুষ দুই হাজার ৫০৪ জন এবং নারী ৬৮০ জন। আর বয়স বিবেচনায় এ পর্যন্ত যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁরা এঁদের বয়স ০ (শূন্য) থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২০৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৪২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯১৩ জন এবং ষাটোর্ধ এক হাজার ৪৮৩ জন।

জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা ঢাকা বিভাগের ১৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচজন, খুলনা বিভাগের চারজন, রাজশাহী বিভাগের তিনজন, ময়মনসিংহ বিভাগের একজন, রংপুর বিভাগের একজন এবং সিলেট বিভাগের একজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ২৭ জন এবং বাসায় তিনজন।

বিভাগ অনুযায়ী এ পর্যন্ত যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁরা ঢাকা বিভাগের এক হাজার ৫২০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৭৭০ জন, রাজশাহী বিভাগের ১৯৩ জন, খুলনা বিভাগের ২৩৩ জন, বরিশাল বিভাগের ১২৬ জন, সিলেট বিভাগের ১৫৩ জন, রংপুর বিভাগের ১২০ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৬৯ জন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৬৬ জন। এ নিয়ে দেশের করোনা সংক্রমণ থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৩৭ হাজার ৯০৫ জন।

ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে চার হাজার ২৩৮টি। একই সময় পূর্বের নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে চার হাজার ২৪৯টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এক হাজার ৩৫৬ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন দুই লাখ ৪২ হাজার ১০২ জন। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৪টি।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৪৬৮ জনকে। একইসময় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩৬৩ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন ৫২ হাজার ২৭৩ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৪৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৮২৫ জন।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে গেছেন ৯৯৯ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট চার লাখ ৪০ হাজার ১৩২ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ৫১৪ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন লাখ ৮৫ হাজার ২৭৮ জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৪ হাজার ৮৫৪ জন।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে সেবা প্রদান যায় বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআর’র হটলাইনে কল এসেছে ৬৮ হাজার ৭৩৯টি। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ফোনকল এসেছে এক কোটি ৮১ লাখ ১০ হাজার ৯৩০টি। এসব কলে সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টেলিমেডিসিন সেবায় প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক এবং ১০ জন স্বাস্থ্যতথ্য কর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিনে করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন দুই হাজার ৩১ জন। এ পর্যন্ত এক লাখ ৫৬ হাজার ২৩০ জন এই সেবা গ্রহণ করেছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

Leave a Reply