খাদ্য নিরাপত্তায় ২০২ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

খাদ্য নিরাপত্তায় ২০২ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে ২০ কোটি ২০ লাখ টাকা (২০২ মিলিয়ন ডলার) ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের বোর্ড এই ঋণ অনুমোদন করে।

আজ রবিবার (০২ আগস্ট) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪৫ লাখ পরিবারের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় কৌশলগত শস্য মজুদ সক্ষমতা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টনে উন্নীত করার লক্ষ্যে গৃহীত আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পে অর্থায়নের অংশ হিসেবে এই ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পটি বাংলাদেশকে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ বা বর্তমানের কভিড-১৯ মহামারির মতো দুর্যোগের সময়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে বলেও সেখানে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এই প্রকল্প চাল ও গম সংরক্ষণের জন্য আশুগঞ্জ, মধুপুর ও ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন তিনটি সাইলোসহ দেশের ৮ জেলায় ৮টি স্টিলের সাইলো নির্মাণে সহায়ক হবে। বিশ্বব্যাংকের ঋণের অর্থ নির্মাণাধীন তিনটি সাইলোসহ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে তিনটি চালের সাইলো এবং চট্টগ্রাম ও মহেশ্বরপাশায় দুটি গমের সাইলো নির্মাণে ব্যয় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগারে খাদ্য শস্য মজুদের ক্ষেত্রে অপচয় অন্তত ৫০ শতাংশ কমবে এবং একইসঙ্গে নতুন মজুদ করা খাদ্যের পুষ্টিমান বর্তমানের ৬ মাসের পরিবর্তে ২ বছর পর্যন্ত বজায় থাকবে।

বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের দেয়া এই ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৩০ বছর। এর ৫ বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে। অর্থাৎ এই ৫ বছরে কোনো সুদ গুনতে হবে না বাংলাদেশকে।

সংস্থাটির বাংলাদেশ ও ভুটানের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ আনিস বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জনগোষ্ঠী গ্রামীণ অঞ্চলে বাস করে। জলবায়ুর ঝুঁকি এসব মানুষের জীবন-জীবিকা ও খাদ্য সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। আধুনিক সাইলো খাদ্য নিরাপত্তাতে নিশ্চিত করতে পারে। বর্তমানে করোনা মহামারির মতো সঙ্কটের সময় খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাস্তবায়নাধীন আটটি আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার বা সাইলোর নির্মাণকাজ চলছে ঢিমেতালে। সাড়ে চার বছরেও স্টিলের সাইলোর নির্মাণ কাজ আরম্ভ করা হয়নি। ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ করার কথা। কিন্তু সাড়ে চার বছরে অগ্রগতি ৩৯ শতাংশ।

Leave a Reply