‘ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ না পাওয়ার খবর বানোয়াট’

‘ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ না পাওয়ার খবর বানোয়াট’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলির সাক্ষাৎ না পাওয়ার খবরকে ‘বানোয়াট গল্প’ বলে অভিহিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বাংলাদেশি একটি দৈনিক পত্রিকা খবর সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনারকে নিয়ে প্রতিবেদনকে বানোয়াট বলে অভিহিত করেন।

ওই দৈনিক পত্রিকার নাম উল্লেখ করে সেখানে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রসঙ্গে একজন সাংবাদিক জানতে চান, পত্রিকাটিতে বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশকে গত সপ্তাহে ভারতের দেওয়া ইঞ্জিনগুলো ‘সেকেন্ডহ্যান্ড’। সেগুলো অন্তত সাত থেকে পাঁচ বছরের পুরনো। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি কিছু বলবে?

জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘ওই একই উৎস (পত্রিকায়) আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের (ভারতের) সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছু ক্ষতিকর গল্প দেখেছি। আমরা আমাদের হাইকমিশনারকে নিয়েও সম্প্রতি বানোয়াট গল্প দেখেছি।’

ভারতের দেওয়া ইঞ্জিনগুলো প্রসঙ্গে অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, বাংলাদেশের জরুরি প্রয়োজন ও অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে ভারত ওই ইঞ্জিনগুলো দিয়েছে।

ওই ব্রিফিংয়েই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনকে উদ্ধৃত করে ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এমন কিছু করতে উচিত নয় যা বাংলাদেশের সঙ্গে তার ঐতিহাসিক সম্পর্কে চিড় ধরাতে পারে। রাম মন্দির নির্মাণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়—এমনটিও ড. মোমেনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অত্যন্ত জোরালো। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী (ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর) বলেছেন, প্রতিবেশিসুলভ সম্পর্কের ক্ষেক্রে বাংলাদেশ এই অঞ্চলের রোল মডেল। আমরা নিশ্চিত যে উভয় পক্ষই এ সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে পারস্পরিক স্পর্শকাতরতার বিষয়ে সজাগ এবং শ্রদ্ধাশীল।’

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ না পাওয়া প্রসঙ্গে ঢাকায় সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত চার মাস সাক্ষাত্ না পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অথচ এ সময়ে ভারতের হাইকমিশন থেকে সাক্ষাতের জন্য সময়ই চাওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের সময় চেয়ে গত ২২ জুলাই একটি অনুরোধ জানানো হয়েছে। হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষে বা অক্টোবরের শুরুর দিকে ঢাকা ছাড়তে পারেন। এর আগে তিনি বিদায়ী সাক্ষাৎ চেয়েছেন।

Leave a Reply