র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য দিয়েছেন সাহেদ

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য দিয়েছেন সাহেদ

করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রস্তুতকারী রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে র‌্যাব-৬-এর খুলনা কার্যালয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র-গুলি ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সাহেদ পাওনাদারকে হুমকি দিতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে ঢাকায় উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা চিকিৎসা জালিয়াতির মামলার তদন্ত করছে র‌্যাব-১। অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, র‌্যাবের ১০ দিনের রিমান্ড শেষ হলে সাহেদকে ২৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হবে। এ সময় কারাবন্দি মাসুদ পারভেজসহ সাহেদের সহযোগীদেরও একসঙ্গে রিমান্ডে নেবে পুলিশ।

র‌্যাব-৬-এর সাতক্ষীরা ক্যাম্প কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বজলুর রশিদ বলেন, সাহেদকে গ্রেপ্তারের সময় জব্দ অস্ত্র-গুলিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রিমান্ড শেষে তাঁকে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় সাহেদকে ঢাকা থেকে খুলনা র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে আনা হয়। এর আগে গত ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম সাতক্ষীরার ভার্চুয়াল আদালতে সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ২৬ জুলাই আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার রায় শুনানি শেষে সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

করোনার ভুয়া পরীক্ষার খবর প্রকাশের পর সাহেদ করিম আত্মগোপন করেছিলেন। গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী দেবহাটা উপজেলার কমলপুর গ্রামের ইছামতী খাল পেরিয়ে নৌকায় করে ভারতে পালানোর সময় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার ঘটনায় সাতক্ষীরায় অস্ত্র আইনে মামলা করে র‌্যাব।

ঢাকায় র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, সাহেদ ও তাঁর সহযোগীরা অবৈধ অস্ত্র রাখতেন। পাওনাদাররা টাকা চাইলে এসব অস্ত্র দিয়ে হুমকি দিতেন। সাহেদের বিরুদ্ধে ৪৮টি মামলার কাগজপত্র পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই নতুন করে মামলা দায়েরে আগ্রহী নন। তাঁদের পুরনো মামলায় আইনগত সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ১৬০ জন সাহেদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা বলেন, র‌্যাবের হেফাজতে ১০ দিনের রিমান্ড শেষ হলে তাঁদের থানায় তিন মামলায় ২১ দিন এবং উত্তরা পূর্ব থানায় এক মামলায় আরো সাত দিনের রিমান্ডে আনা হবে সাহেদকে। সাহেদের প্রধান সহযোগী এবং রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ পারভেজের ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সাহেদের সঙ্গে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকেও রিমান্ডে আনা হবে। মাসুদ বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। বর্তমানে রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজানুর রহমান একটি মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে আছেন উত্তরা পশ্চিম থানায়। মেট্রো রেলে কর্মরত ৭৬ কর্মীর ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে একজন ঠিকাদার সাহেদ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন।

Leave a Reply