বিদেশিদের করোনা চিকিৎসায়ও তালিকাভুক্ত হাসপাতাল ছিল রিজেন্ট

বিদেশিদের করোনা চিকিৎসায়ও তালিকাভুক্ত হাসপাতাল ছিল রিজেন্ট

করোনা রোগীদের চিকিৎসার নামে রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণার শিকার হয়েছেন দেশের বহু মানুষ। একইভাবে প্রতারিত হতে পারতেন বিদেশিরাও।

কেননা, করোনায় সংক্রমিত হলে ঢাকার বিদেশি কূটনীতিক ও নাগরিকদের জন্য ঢাকার যে চারটি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছিল, তার মধ্যে ছিল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালও। তবে হাসপাতালটির প্রতারণা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বিদেশিরা। কেননা, তারা কেউই ওই হাসপাতালে যাননি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে বিদেশি কূটনীতিক ও নাগরিকদের জন্য সরকার থেকে চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ছিল সরকারি আর দুটি বেসরকারি হাসপাতাল। বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে একটি ছিল আলোচিত মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতাল।

সূত্র জানায়, ঢাকার বিদেশি কূটনীতিক ও নাগরিকদের করোনা চিকিৎসায় প্রস্তুত করা হয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হসপিটাল। হাসপাতালটি দেখিয়ে কূটনীতিকদের আশ্বস্তও করে পররাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়াও বিদেশিদের চিকিৎসায় রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়। আর বেসরকারি হাসপাতালের তালিকায় ছিল এভারকেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো) ও রিজেন্ট।

করোনা রোগীদের চিকিৎসার নামে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত সোমবার (৬ জুলাই) রাতে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‍্যাব। এতে করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ মেলে। অন্তত ছয় হাজার ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদ পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় অভিযানে।

পরদিন মঙ্গলবার রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. শাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ (৪৩), ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজ (৪০), অ্যাডমিন আহসান হাবীব (৪৫), এক্সরে টেকনিশিয়ান হাসান (৪৯), মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হাকিম আলী (২৫), রিসিপশনিস্ট কামরুল ইসলাম (৩৫), রিজেন্ট গ্রুপের প্রজেক্ট অ্যাডমিন রাকিবুল ইসলাম (৩৯), রিজেন্ট গ্রুপের এইচআর অ্যাডমিন অমিত অনিক (৩৩), গাড়িচালক আব্দুস সালাম (২৫), এক্সিকিউটিভ অফিসার আব্দুর রশীদ খান জুয়েল (২৮), হাসপাতাল কর্মচারী তরিকুল ইসলাম (৩৩), স্টাফ আব্দুর রশিদ খান (২৯), স্টাফ শিমুল পারভেজ (২৫), কর্মচারী দীপায়ন বসু (৩২) এবং মাহবুব (৩৮)। অপর দু’জনের নাম জানা যায়নি।

১৭ জন আসামির মধ্যে এমডি মাসুদ পারভেজসহ আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে রিজেন্ট চেয়ারম্যান শাহেদসহ ৯ জন পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার রোগী স্থানান্তরের পর উত্তরা ও মিরপুরের দুটি হাসপাতালই সিলগালা করে দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিন সিলগালা করা হয় রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ও।

আগের দিন সোমবার রাতে চালানো অভিযানে অননুমোদিত র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ও সাহেদের গাড়ি জব্দ করা হয়। র‌্যাবের অভিযানে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে অবস্থিত রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে বহু অপকর্মের তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।

Leave a Reply