সব নিম্ন আদালতেই আত্মসমর্পন করা যাবে

সব নিম্ন আদালতেই আত্মসমর্পন করা যাবে

বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় যেসব আসামি বা আসামিরা পুলিশী গ্রেপ্তার এড়াতে ফেরারি জীবনে ছিলেন বা আত্মগোপনে ছিলেন সেসব আসামি এখন থেকে দেশের এখতিয়ার সম্পন্ন সকল নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আত্মসমর্পণের এই সুযোগ দিয়ে এ বিষয়ে আজ রবিবার একটি নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশী মামলা করারও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের স্বাক্ষরে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

জারি করা বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী, আত্মসমর্পণ বা নালিশী মামলা করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। পরতে হবে মাস্ক। এজলাস কক্ষে ছয়জনের বেশি ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। প্রত্যেককে কমপক্ষে ছয় ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আত্মসমর্পণকারী একজন আসামির পক্ষে আদালত কক্ষে সর্বোচ্চ দুইজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। আর নালিশী মামলা করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আবেদনকারী ও তার আইনজীবী আদালত কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবেন। অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করার পর তার জবানবন্দী গ্রহণ করতে হবে। এরপর অভিযোগকারীর স্বাক্ষর গ্রহণ ও আদেশ দেবেন আদালত। এরপর অভিযোগকারী ও আইনজীবী আদালত কক্ষ ত্যাগ করবেন। এর দুই মিনিট পর পরবর্তী আবেদনকারী ও তার আইনজীবী আদালত কক্ষে প্রবেশ করবেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে নিয়মিত আদালত বন্ধ থাকায় গত ১১ মে থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালতে আসামির জামিনের আবেদনের ওপর শুনানির ব্যবস্থা করা হলেও পলাতক আসামির আত্মসমপর্ণের কোনো সুযোগ ছিল না। এ বিষয়ে আইনজীবীদের অব্যাহত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট শুধুমাত্র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামির আত্মসমর্পনের বিষয়ে গত ৪ জুলাই বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এখন সকল অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পনের সুযোগ সৃষ্টি করা হলো।

আত্মসমর্পনের সাত শর্ত

আত্মসমর্পণের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জারি করা সাত দফা নিদের্শনায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিগণ অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন, শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় কার্য পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।

(১) বিজ্ঞ বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট আত্মসমর্পণ আবেদন দাখিল এবং শুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করবেন যাতে আদালত প্রাঙ্গণে এবং আদালত ভবনে কোনরূপ জনসমাগম না ঘটে। আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে প্রত্যেককে কমপক্ষে ছয় ফুট শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং সকল প্রকার জনসমাগম পরিহার করতে হবে।

(২) আদালত প্রাঙ্গণ এবং আদালত ভবনে জনসমাগম এড়াতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক আত্মসমর্পনের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট। এ বিষয়ে একটি তালিকা সম্বলিত বিজ্ঞপ্তি আদালত এবং আইনজীবী সমিতির নোটিশ বোর্ডে প্রচারের ব্যবস্থা করবেন।

(৩) একটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে সর্বোচ্চ দুইজন আইনজীবী শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এজলাস কক্ষে একত্রে ছয়জনের অধিক লোকের সমাগম করা যাবেনা। তবে একই মামলায় একাধিক আত্মসমর্পণকারী অভিযুক্ত ব্যক্তি থাকলে এজলাস কক্ষের ডকে সর্বোচ্চ পাঁচজন অভিযুক্ত ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে বিজ্ঞ বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট উক্তরূপ মামলা একাধিক ভাগে/সেশনে শুনানি করতে পারবেন এবং সম্পূর্ণ শুনানি সম্পন্ন করে আইনানুগ আদেশ প্রদান করবেন। মামলা শুনানির সময়ে এজলাস কক্ষের বাইরে আদালতের বারান্দায় বা করিডরে জনসমাগম সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ।

(৪) আত্মসমর্পণ আবেদন শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ব্যতীত অন্য কোনো আইনজীবী আদালত কক্ষে অবস্থান করতে পারবেন না। একটি আত্মসমর্পণ আবেদন শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা কক্ষ ত্যাগ করার পর বিজ্ঞ বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তী আত্মসমর্পণের আবদেন শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।

(৫) এজলাস কক্ষে প্রত্যেককে মাস্ক পরতে হবে। আদালতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক ব্যক্তির তাপমাত্রা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ শারীরিক দূরত্ব কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক যেকোনো পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনবোধে আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শুনানি করা হতে বিরত থাকাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

(৬) এই নির্দেশনা ইতিপূর্বে জারি করা বিগত ৪ জুলাই তারিখের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিজ্ঞ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিগণের আত্মসমর্পনের আবেদন দাখিল ও শুনানি সংক্রান্ত প্রাকটিস নির্দেশনার পরিপূরক হিসেবে গণ্য হবে।

(৭) এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

Leave a Reply