শেষ হলো বাজেট অধিবেশন

শেষ হলো বাজেট অধিবেশন

একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম (দ্বিতীয় বাজেট)অধিবেশন আজ শেষ হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রানমশ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ঘোষণা পাঠ করে শোনানোর মাধ্যমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
শেষদিনে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাপনি ভাষণ দেন। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরও বক্তৃতা করেন।
এ অধিবেশনে গত ১১ জুন অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় বাজেট পেশ করেন। করোনা পরিস্থিতিতে বাজেট তৈরিতে মানুষের জীবন-জীবিকাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’ শিরোনামে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়।
বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) দুর্যোগের মধ্যেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে এ বাজেট পেশ করা হয়।
এবারের বাজেট অধিবেশন গত ১০ জুন শুরু হয়ে আজ পর্যন্ত মোট ৯ কার্যদিবস পর্যন্ত চালানো হয়। বাজেটের উপর মোট ৫ ঘন্টা ১৮ মিনিট আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে মূল বাজেটের উপর ৪ ঘন্টা ১২ মিনিট এবং সম্পূরক বাজেটের উপর ১ ঘন্টা ৬ মিনিট আলোচনা হয়। মূল বাজেটের উপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১০ জন, জাতীয় পার্টির ৩ জন, বিএনপির ১ জন, জাসদের ১ জন ও ওয়ার্কার্স পার্টির ১ জন সংসদ-সদস্য আলোচনায় অংশ নেন।
এ ছাড়া সম্পূরক বাজেটের উপর ৬ জন সংসদ-সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। বাজেট পাসসহ এ অধিবেশনে ১৬টি সরকারি বিলের মধ্যে ৫ টি সরকারি বিল পাস হয়। আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে ১২ টি নোটিশ পাওয়া গিয়েছে।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য সর্বমোট ২৬টি প্রশ্ন পাওয়া যায়, এর মধ্যে তিনি সম্পূরকসহ ১১টি প্রশ্নের উত্তর দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য প্রাপ্ত মোট ৪১০টি প্রশ্নের মধ্যে ১৫৬টি প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়।
এর আগে স্পিকার বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) দুর্যোগের মধ্যেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে সকলের সহযোগিতায় এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনার সুদক্ষ নির্দেশনায় একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মযজ্ঞ গ্রহণ করেছিলেন, তাঁরই সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বৈশ্বিক মহামারির সময়েও এ ধরণের বাস্তবসম্মত এবং জনমুখী বাজেট প্রণয়ন প্রশংসার দাবি রাখে।
তিন বলেন, সংসদ পরিচালনায় সংসদ-সদস্যদের সহযোগিতা একান্ত অপরিহার্য। এ অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় সংসদ সদস্যদের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য স্পিকার আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, নানা বিচারে এবারের বাজেট অর্থনৈতিক উত্তরণের জন্য একটি আর্থিক প্রস্তবনা।
তিনি বলেন, আশা করা যায়, ২০২১ সালে বিশ্ব এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি কোভিড-১৯ প্রভাব থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের অর্থনীতি তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। আগামী ২০২০-২১ অথর্বছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার ৮.২ শতাংশ অর্জন সম্ভব হবে।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতি মোকবেলা করে সফল উত্তরনণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথা সরকারের নেয়া বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ ও তা বাস্তবায়নের বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এ জন্য অভ্যন্তরিণ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে করণীয় বিষয়ের তিনি উল্লেখ করেন।
স্পিকার কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সব ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে অধিবেশন পরিচালনা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য স্পিকার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ ছাড়া তিনি চিফ হুইপ ও হুইপবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিরোধী দলীয় নেতা, উপনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বৈশ্বিক মহামারি করোনার অগ্রযোদ্ধা ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এ বৈশ্বিক মহামারিতে মৃত্যুবরণকারীদের জন্য তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
খবর বাসস

Leave a Reply