করোনা চিকিৎসায় স্বয়ংসম্পূর্ণ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল

করোনা চিকিৎসায় স্বয়ংসম্পূর্ণ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল

কক্সবাজার জেলা সদরের আড়াই শ শয্যার হাসপাতালটি এখন করোনা রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। হাসপাতালটিতে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য সেবায় যুক্ত হয়েছে আইসিইউ, এইচডিইউ, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা (অক্সিজেন মেশিন) সহ বাড়ানো হয়েছে আইসোলেশন সেন্টারও। শিগগিরই যুক্ত হতে যাচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টও। সেই সাথে বাড়ানো হচ্ছে আরো আইসোলেশন বেড।

শুক্রবার দুপুরে শ্রীম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব) কর্তৃক জেলা প্রশাসনকে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা মেশিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উঠে আসে।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল এখন অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন হাসপাতালে ১৮ বেডের আইসিইউ-এইচডিইউ, ৪টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা (অক্সিজেন মেশিন) রয়েছে। যা দ্বারা সংকটাপন্ন করোনা রোগীদের জীবন রক্ষা করা যাবে। তবে একটি অসুবিধা রয়েছে; সেটি হলো অক্সিজেন রিফিল করা। যা এখন চট্টগ্রাম থেকে করতে হয়। যদি অক্সিজেন রিফিলের ব্যবস্থা কক্সবাজারে করা যায় তাহলে দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে।

শ্রীম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর মহাসচিব মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নানা সংকট রয়েছে। এই সংকট নিরসনে কিছুটা হলেও এগিয়ে এসেছে চিংড়ি পোনা হ্যাচারি মালিকদের সংগঠন শ্রীম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। তাই করোনা রোগীদের চিকিৎসা এই হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা মেশিন দেয়া হয়েছে।

শ্রীম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি ও কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, করোনা চিকিৎসায় যে অপ্রতুলতা তা অনেকটা কেটে যাচ্ছে। আমাদেরটিসহ এই পর্যন্ত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৪টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা যুক্ত হয়েছে। আর কয়েকটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দিবে বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে করোনায় সংকটাপন্ন রোগীদের বাঁচাতে এখন চিকিৎসকরা সরঞ্জামাদি পাচ্ছে। ফলে সংকট কেটে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অক্সিজেন রিফিলের জন্য যে অসুবিধা হচ্ছে; এটা যাতে সংকট নিরসন করা যায় তারও উদ্যোগ নেয়া হবে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুবর রহমান বলেন, করোনা মহামারী শুরু হয়েছে এটা কবে শেষ হবে এটা কেউ জানে না। তবে পরম করুণাময়ের কাছে কামনা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন কক্সবাজার, তথা বাংলাদেশ এবং বিশ্ববাসীকে এই করোনা গ্রাস থেকে যেন মুক্তি দেন। তারই ধারাবাহিকতা শ্রীম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শুক্রবার আরো একটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা যুক্ত হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগে। তারা শুরু থেকে সুরক্ষা সামগ্রী, অক্সিজেন ও নানা সরঞ্জাম দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে সহযোগিতা করে আসছে। তাদের প্রতি স্বাস্থ্য বিভাগের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শেষ নেই। তবে তাদের কাছে আরো অনুরোধ ভবিষ্যতেও যাতে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, করোনা মহামারীতে গত ৩ মাসে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসিইউ-এইচডিইউ’র ১৮টি বেড পেয়েছি। যেটা এখনো অনেক জেলাতেই হয়ে উঠেনি। অতিপ্রয়োজনীয় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা যুক্ত হয়েছে; সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট সংযোজন প্রক্রিয়া শেষ হবার পথে। এ ছাড়া রামু ও চকরিয়ায় ৫০ শয্যার আইসোলেশন শুরু হলেও সেটা এখন বাড়িয়ে ৭৫ শয্যা করা হয়েছে।

উখিয়া ও টেকনাফে ১৯০০ বেডের আইসোলেশনের মধ্যে ৫০০ বেড ইতিমধ্যে কাজ করছে। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে সৈকতের পাশে ২০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার করা হয়েছে। সেখানেও চিকিৎসা সেবা চলছে। সুতরাং বলা যায়, করোনায় সংকটাপন্ন রোগীদের বাঁচাতে কক্সবাজার এখন ভরসা জায়গায় পরিণত হচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থারও অমূল্য পরিবর্তন হচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার পর হিল ডাউন সার্কিট হাউজে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের কাছে এই মেশিনটি হস্তান্তর করেন সংগঠনটির সভাপতি ও সাংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এবং মহাসচিব মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা, মাহাবুবুর রহমান, জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহীন আব্দুর রহমান সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply