করোনা : ওয়ারী লকডাউন করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে চিঠি

করোনা : ওয়ারী লকডাউন করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে চিঠি

রাজধানীর ওয়ারীর কয়েকটি এলাকা রেড জোনে লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে এই চিঠি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পাঠানো হয়েছে। চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. এমদাদুল হক।
তিনি বলেন, আমরা সাড়ে ৫টার পর আমাদের ৪১ নং ওয়ার্ড ওয়ারীকে লকডাউন করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। যখন চিঠিটা পেয়েছি তখন অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। তাই চিঠির বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম আগামীকাল গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ওয়ারীকে লকডাউন করার জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। আমরা আগেও একটি লকডাউন বিষয়ক সভা করেছি। এই চিঠি পাওয়ার পর দ্বিতীয় সভা ডাকা হতে পারে। আগামীকাল মেয়র মহোদয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাজনীন ওয়ারেস সই করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কেন্দ্রীয় কারিগরি গ্রুপের গত ২২ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ারী এলাকার নিম্ন বর্ণিত অংশকে লাল অঞ্চল (রেড জোন) হিসেবে বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ হতে অনুরোধ করা হয়েছে।
চিঠিতে ওয়ারীর লকডাউন এলাকার আউটার রোডের বর্ণনায় বলা হয়েছে টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে (জয়কালী মন্দির থেকে বালধা গার্ডেন)। আর ইনার রোডের বর্ণনায় বলা হয়েছে লালমিনি রোড, হরে রোড, ওয়ার রোড, রানকিন রোড ও নওয়াব রোড ‘রেড জোন’ হবে।
এ অবস্থায় রেড জোন লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এর সঙ্গে প্রেরণ করা হলো। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪১ নং ওয়ার্ডের উল্লেখিত রেড জোন এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হলো।
প্রসঙ্গত, করোনা মোকাবিলায় বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড (লাল), অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়োলো (হলুদ) ও একেবারে কম আক্রান্ত বা আক্রান্তমুক্ত এলাকাকে গ্রিন (সবুজ) জোন হিসেবে চিহ্নিত করছে সরকার। রেড জোনকে ১৪ থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন করা হচ্ছে, সেখানে থাকছে সাধারণ ছুটি।
গত ২১ জুন মধ্যরাতে ১০ জেলার ২৭টি এলাকা ও পরদিন ২২ জুন ৫ জেলার ১২ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সেখানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সর্বশেষ গত ২৩ জুন দেশের চার জেলার ৭টি এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়। করোনা আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি ঢাকায় থাকলেও সেখানে এখনও রেড জোন ঘোষণা করা হয়নি। তবে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারকে রেড জোন ঘোষণা করে সেখানে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

Leave a Reply