ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’: নৌবাহিনীর ২৫ জাহাজ প্রস্তুত

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’: নৌবাহিনীর ২৫ জাহাজ প্রস্তুত

সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’ মোকাবিলায় চট্টগ্রাম, খুলনা ও মোংলা নৌ-অঞ্চলে নৌবাহিনীর ২৫টি জাহাজ সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় দ্রুততম সময়ে জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ এবং চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় অনুসন্ধান কাজের জন্য নৌবাহিনীর দুটি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফট এবং দুটি হেলিকপ্টার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
আইএসপিআর থেকে বলা হয়, সেই সঙ্গে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুরসহ উপকূলীয় দূর্গত এলাকাগুলোতে মোতায়েনের জন্য নৌ কন্টিনজেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সমুদ্র ও উপকূলীয় উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য প্রথমে নৌবাহিনীর দুটি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট ও দুটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নৌবাহিনী জাহাজগুলো উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
প্রাথমিকভাবে এ উদ্ধার কাজের জন্য বানৌজা সমুদ্রজয় ও সমুদ্র অভিযান কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকায়, বানৌজা গোমতি মোংলা ও তৎসংলগ্ন সাগর তীরবর্তী এলাকায় নিয়োজিত থাকবে।
অন্যদিকে বানৌজা সুরভি চট্টগ্রামের বহিঃনোঙর থেকে মহেশখালী এলাকায়, বানৌজা বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা, প্রত্যয়, সংগ্রাম ও প্রত্যাশা বহিঃনোঙর থেকে চট্টগ্রামের পোতাশ্রয় এলাকায়, বানৌজা দূর্জয়, নির্মূল ও শাপলা চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায়, বানৌজা অতন্দ্র সন্দীপ ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায়, বানৌজা অপরাজেয় হাতিয়া এলাকায় নিয়োজিত থাকবে।
এছাড়া রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে কাপ্তাই নৌঘাটি বানৌজা শহীদ মোয়াজ্জম থেকে বোট নিয়োজিত থাকবে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষীপুরে নৌবাহিনীর এলসিইউ-০১ এবং এলসিইউ-০২, বরিশাল ও আশপাশের এলাকায় বানৌজা হাতিয়া, সন্দীপ, শাহ পরাণ এবং শাহ মখদুম, বরগুনা, বরিশাল, সাতক্ষীরা ও ঝালকাঠির অভ্যন্তরীণ রুটে নৌবাহিনীর এলসিটি-১০৪ এবং এলসিটি-১০৫ এবং কর্নফুলী চ্যানেলে বানৌজা খাদেম নিয়োজিত থাকবে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য বিশেষ মেডিক‌্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, স্যালাইন ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
আইএসপিআর থেকে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড়ের আগাম প্রস্তুতি হিসাবে উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে খুলনা নৌঅঞ্চলের দুটি জাহাজ সাতক্ষীরা ও দুবলার চর যাওয়ার উদ্দেশ্যে খুলনা নৌজেটি ত্যাগ করেছে।
সেই সঙ্গে সড়কপথে ৫ সদস্যের একটি মেডিক‌্যাল টিমসহ ২৪ জন নৌসদস্যের একটি টিম দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে গেছে।
বরিশাল, বরগুনা ও পটুয়াখালীতে টহলরত তিনটি জাহাজকে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী প্রাথমিক রেসপন্স জাহাজ হিসাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের তীব্রতা ও আঘাতের প্রকোপ পর্যবেক্ষণের পর নৌবাহিনীর আরও পাঁচটি জাহাজ বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Leave a Reply