করোনা দুর্যোগে নতুন দুর্ভোগ ‘আম্পান’

করোনা দুর্যোগে নতুন দুর্ভোগ ‘আম্পান’

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দুর্যোগ মহামারীর সঙ্গেই বঙ্গোপসাগারে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোকাবেলায় ব্যস্ত হতে হয়েছে প্রশাসনকে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষের চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে এবার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সাইক্লোনসেল্টারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে র্দুগত মানুষদের আশ্রয় দেওয়ার। সেই কারণেই নির্ধারিত ৪৭৯টি সাইক্লোনসেল্টারের পাশাপাশি চট্টগ্রামের প্রাথমিক ও মাধ্যমি বিদ্যালয়গুলো খুলে দিতে বলা হয়েছে। এসব সাইক্লোনসেল্টারে দুর্গত মানুষদের অবস্থান করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, দূরত্ব বজায় রেখে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, দিক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে। এটি আরো শক্তিশালী হয়ে এবং দিক পরিবর্তন করে মঙ্গলবার বাংলাদেশের খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এই কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সভা করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সাইক্লোনসেল্টারগুলোতে অবস্থান করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এটা নিশ্চিত করতেই হবে। না হলে করোনা আরো বেশি ছড়াতে পারে। এই কারণে নির্ধারিত সাইক্লোনসেল্টারগুলোর পাশাপাশি স্কুলগুলোকেও সাইক্লোনসেল্টারে পরিণত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভার কার্যবিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকিয়ে সাইক্লোনসেল্টারগুলোতে আশ্রয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে এক হাজার মে.টন চাল, ৫০ লাখ টাকা ও ২০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারসহ আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র চেয়ে চিঠি পাঠিায়েছে জেলা প্রশাসন।

এ ছাড়াও সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে মেডিক্যাল টিম প্রস্তুতি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের অধীনে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় মজুদ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকা, কৃষি, বিদ্যুৎসহ সেবাখাতের সংশ্লিষ্টদের সেবা কার্যক্রম সচল রাখা এবং এলাকায় মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসার প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

Leave a Reply