লকডাউন এলাকায় কোয়ারেন্টিনে বাধ্য করছে পুলিশ

লকডাউন এলাকায় কোয়ারেন্টিনে বাধ্য করছে পুলিশ

‘বাধ্য হয়ে বের হই। ভয় লাগছে। আশপাশের অনেক এলাকায় নাকি পাওয়া যাচ্ছে। গোটা মিরপুরেই হয়তো ছড়িয়ে গেছে!’ কথাগুলো বলছিলেন মিরপুরের আহম্মেগনগরের বাসিন্দা আব্দুল মোমেন। গতকাল মসঙ্গলবার দুপুরে ডিম কিনে বাজারে বের হন তিনি। এলাকার অবস্থা জানতে চাইলে রাস্তার উল্টোদিকে উত্তর টোলারবাগ মহল্লার গেট থেকেই বলেন, ‘দেখেন আমাদের এখানে পাওয়া যায়নি, তাও আমরা ভয়ে আছি। আর ওই এলাকার লোকজন কেমন চলাফেরা করে। টিভিতেও দেখছি। ওরা ভয়ই পায় না। লোকগুলা হোম কোয়ারেন্টিন মানলো না!’

গত তিন দিন টালারবাগ, উত্তর টোলারবাগ, শাহআলী বাগ, মনিপুর, সেনপাড়া পর্বতা, মিরপুর ১০ ও মিরপুর ১১ নম্বরসহ নয়টি এলাকায় ঘুরে লোকজনের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ দেখা গেছে। আইইডিসিআর এর তথ্যমতে, সোমবার পর্যন্ত মিরপুর অঞ্চলের সাতটি মহল্লার ১১ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে টোলারবাগারেই মিলেছে ছয়জন। এ মহল্লায় গত ২১ ও ২২ মার্চ দুই বৃদ্ধ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর স্থানীয়দের উদ্যোগে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভেতরের বস্তিবাসী ও কিছু ভাড়াটিয়া হোম কোয়ারেন্টিন মানেননি। অনেকে এলাকা ছেড়ে চলেও গেছেন। এদিকে রবিবার থেকে মিরপুর ১ নম্বরের শাহআলীবাগে একই পরিবারের দুজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় ওই ভবন ও একটি টিনসেড বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এলাকাসীর এমন সিদ্ধান্তের পর পুলিশও সেখানে পাহারা বসিয়েছে।

অন্যদিকে মনিপুর, সেনাপাড়া, কাজী পাড়ার একটি অংশ, মিরপুর ১৩ ডেসকো কোয়ার্টার, মিরপুর ১০ নম্বর রোডের ৭ নম্বর গলি ও ১১ নম্বর এলাকায় করোনা রোগী পাওয়া গেছে এমন খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব মহল্লায় পুলিশ বেশ কিছু পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিন মানতে বাধ্য করছে।

উত্তর টোলারবাগের বাসিন্দা রহমত আলী মোবাইল ফোনে জানান, তিনি নির্দেশনা মেনে কোয়ারেন্টিনে আছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রোগী পাওয়ার পরই মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কিছু লোক মসজিদে নামাজ পড়েছেন। লোকজন নিয়োমিত ঘোরাঘুরি করেন। কেউ মানছেন আর কেউ মানছেন না। এতে লাভ কতটুকু?’ পাশের টোলারবাগ মহল্লার বাসিন্দারাও বলেন, তাদের এলাকাটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মসজিদ বন্ধ করা হয়েছে। তবে অনেকেইে তা মেনে চলছেন না।

উত্তর টোলারবাগ বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাইকিং করে সবাইকে ঘরে থাকতে বলছি। কতজন রোগী পাওয়া গেছে কি অবস্থা এটাও বলছি। এরপরও অনেকে শোনে না। বেশি সমস্যা রুপালী ব্যাংকের জায়গার বস্তির বাসিন্দারা।’

মিরপুর থানার পেছনের মনিপুর রোড ও ১০০ ফুট রাস্তায় লোকজনের চলাচল কম। তবে গলির মধ্যে দোকানের সামনে বাসার সামনে অনেক মানুষকে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। দোকানের সামনে জড়ো হওয়া কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, তারা এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ শুনেছেন। তবে ঘরেই সবসময় থাকতে পারছেন না। অনেকে বাইরে কাজ আছে বলে দাবি করেন। ১০০ ফুটের রাস্তায় পুলিশের মাইকিং শোনা গেলো। এর পাশেই হাঁটছিলেন কিছু পথচারী।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১ নম্বর ওভারব্রিজের পাশের গলির শাহআলীবাগের তিনটি বাড়ি লকডাউন করেছে এলাকাবাসী। সেখানে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পুলিশ। মাইকিং করে পুরো এলাকায় সতর্ক করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। লকডাউন করা ওই তিন বাড়িতে ২৫টি পরিবারের বসবাস।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, একটি পরিবারের দুজন সদস্য জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্ত দুজন কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এরপর দুইটি বহুতল ভবন ও একটি টিনশেড বাড়ি লকডাউন করেছেন এলাকাবাসী। পুলিশ সেটি কার্যকর করছে বলে জানান ওসি।

Leave a Reply