পিপিই নেই, কিছুই নেই, নিঃশ্বাস বন্ধ রেখে করোনা থেকে বাঁচার চেষ্টা নার্সদের!

পিপিই নেই, কিছুই নেই, নিঃশ্বাস বন্ধ রেখে করোনা থেকে বাঁচার চেষ্টা নার্সদের!

পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্টের (পিপিই) অভাবের কারণে করোনভাইরাস রোগীদের চিকিৎসা করার সময় ব্রিটেনের ডাক্তার ও নার্সরা নিঃশ্বাস ধরে রাখছেন।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ডা. রিনেশ পারমার বলেছিলেন যে, তার সংস্থা জরিপ করেছে সেখানে ৪৩ শতাংশ চিকিৎসকের চোখের কোনও সুরক্ষা নেই এবং ২০ শতাংশ চিকিৎসক উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের পিপিই পর্যন্ত নেই।

তিনি স্কাই নিউজের ‘সানডে প্রোগাম’ এর উপস্থাপক সোফি রিজকে বলেছেন, অনেক বেশি পিপিই সরঞ্জামের ঘটতি রয়েছে। সরকার নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবতা হচ্ছে এনএইচএস কর্মীদের হাতে পর্যাপ্ত পিপিই হস্তান্তর করা হয়নি। প্রচুর পরিমাণে ঘাটতি রয়েছে।

ডা. পারমার বলেছিলেন,’চিকিৎসক বলেছেন যে তাদের মাস্কগুলি পুনরায় ব্যবহার করতে হবে যা কেবলমাত্র একবারের জন্য ব্যবহার হওয়া উচিত এবং কখনও কখনও তারা নার্সরা তাদের সঙ্গে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে কথা বলে থাকেন। ডাক্তার এবং নার্সরা আইসিইউতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করার সময় তাদের শ্বাস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, কারণ তারা নিশ্চিত নন তাদের যে মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে সেগুলি পর্যাপ্ত সুরক্ষা প্রদান করবে কিনা।’

তিনি আরও বলেন, এনএইচএস কর্মীদের জন্য এটা খুবই হতাশাব্যাঞ্জক গল্প। রোগীদের পাশাপাশি এনএইচএস কর্মীদের নিরাপত্তা এখন আমাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। পিপিই’র যে মারাত্মক অভাব দেখা দিচ্ছে তার প্রেক্ষিতে আমরা আরও বেশি সহকর্মী হারাতে পারি। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’

ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে ব্রিটেনের করোনা পরিস্থিতি। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীদের কোভিড-১৯ রোগীদের সংখ্যা। দিনরাত চিকিৎসা দিয়েও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না ডাক্তার-নার্সা ও মেডিক্যাল স্টাফরা। চিকিৎসায় রত স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই অর্থাৎ পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্টের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। যেভাবে দ্রুতগতিতে সে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ, তাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যথেষ্ট মুশকিল হচ্ছে। সেটা এতটাই, যে ময়লা ফেলার প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে নিজেদের মুড়ে করোনা-যুদ্ধে নামতে হচ্ছে সেদেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘প্রতিটা হাসপাতালের আইসিইউ এখন কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীতে পরিপূর্ণ। এই অবস্থায় ময়লা ফেলার প্লাস্টিকের ব্যাগ বা বিন ব্যাগ দিয়ে বানানো পিপিই পরতে হচ্ছে আমাদের। অনেক হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু যে হাসপাতালগুলোয় করোনার চিকিৎসার পরিকাঠামো রয়েছে, সেগুলোই খোলা। তার পরেও সেগুলির বেশিরভাগেই কর্মীর অভাব আছে, বেডের অভাব। একদম সাধারণ মানের ভেন্টিলেটরও সব জায়গায় নেই।’

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ব্রিটেনে বড় আঘাত হানবে করোনাভাইরাস। এই সময়টাকেই বিশ্লেষকদের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘পিক টাইম’। আর চিকিৎসা কর্মীরা এখনই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, কী তীব্র সংকটময় সময় আসছে সামনে। এখনই এক-এক জন চিকিৎসককে ১৩-১৪ ঘণ্টা করে কাজ করছেন প্রতিদিন। সেটাও করতে হচ্ছে ময়লা ফেলার পলিথিন, প্লাস্টিকের এপ্রোন ও স্কিইং করার চশমা পরে। কোনও রকমে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন তারা।

সূত্র-ইয়াহু নিউজ।

Leave a Reply