পাওয়া যাচ্ছে না ডেটল-স্যাভলন, ক্ষতস্থানে দুবলা

পাওয়া যাচ্ছে না ডেটল-স্যাভলন, ক্ষতস্থানে দুবলা

ভাই ডেটল স্যাভলন কোথাও পাইনি। তাই দুবলা দিয়ে কাজ চালিয়েছে যাচ্ছি। ছোটকালে দেখতাম বাপ-চাচারা কোনো কারণে হাত পা কেটে গেলে দুবলা চাবিয়ে হাতে-পায়ে লাগিয়ে দিয়েছে। ওই নীতিই এখন ফলো করছি।

আমার ছেলের ক্ষতস্থানে সেটাই লাগিয়ে দিয়েছি। ঢাকা শহরের দুবলা পাওয়া খুবই কষ্টের বিষয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে পেলাম।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলের দিকে রামপুরা ওয়াপদা রোডে আব্দুল কাদের নামের মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি তার চার বছরের ছেলেকে কোলে কোলে নিয়ে বিভিন্ন ওষুধের দোকান ঘুরছে। প্রশ্ন একটাই- ডেটল,স্যাভলন আছে কিনা। চার থেকে পাঁচটি দোকানে একই কথা- ১০ থেকে ১৫ দিন আগে থেকেই এসব জিনিস নেই। যারা সাপ্লাই দেয় তারা আসে না। অবশেষে ডেটল স্যাভলন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে হাতিরঝিল থেকে দুবলা ঘাস সংগ্রহ করে তা মুখে দিয়ে চিবিয়ে ছেলের ক্ষত জায়গায় লাগিয়ে দিয়েছে আব্দুল কাদের।

আব্দুল কাদির বলেন, আমার ছেলে ছাদে খেলতে গিয়ে পড়ে গিয়ে হাতে পায়ে ও হাটুতে ব্যথা পেয়েছে। ছিলে গেছে, সেখান থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। রামপুরা এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে কোথাও ডেটল স্যাভলন পেলাম না। তাই পুরাতন নিয়ম বাপ চাচাদের থেকে শিক্ষা নেওয়া দুবলা চিবিয়ে রস করে সন্তানের ক্ষত জায়গায় লাগিয়ে দিলাম।

পরে ওই এলাকায় হক ফার্মা সিটি ফার্মা, অপূর্ব ফার্মা ওষুধের দোকানে থাকা দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। কোনো ডেটল স্যাভলন এখন নেই। কোম্পানি আগে এসে দিয়ে যেত। এখন যোগাযোগ করলেও সেগুলো পাওয়া যায় না। তারা ফোনও ধরেনা।

এদিকে খিলগাঁও গোড়ান নবাবীমোড় এলাকায় মজুমদার ফার্মেসির মালিক শাহীন বলেন, আমার দোকানে আগে যা ছিল সব বিক্রি হয়ে গিয়েছে। করোনাভাইরাস শুরুর পর থেকেই এগুলার সাপ্লাই আর পাওয়া যাচ্ছে না। আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে আমার দোকানে ডেটল স্যাভলন নেই। নতুন করে অর্ডার যে দেবো তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
এদিকে রাজধানীর শনিআখরা থেকে সরকারি চাকরিজীবী আলামিন বলেন, ডেটল স্যাভলন নানা কাজে আমি আগে থেকে ব্যবহার করে আসছি। আমার গোসলের সময় আমি বালতির পানিতে কয়েকটা ফোঁটা ডেটল ব্যবহার করে থাকি। এখন ১০ থেকে ১৫ দিন হলো ডেটল-স্যাভলন কোথাও পাচ্ছি না। শনিআখড়া থেকে শুরু করে গুলিস্তান পর্যন্ত খুঁজতে খুঁজতে অনেক ওষুধের দোকানে গিয়ে কোথাও পাইনি। অবশেষে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকানে সেখানেও খুঁজেছি পাইনি।

Leave a Reply