যুক্তরাষ্ট্রে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু, আক্রান্ত ছাড়াল এক লাখ

যুক্তরাষ্ট্রে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু, আক্রান্ত ছাড়াল এক লাখ

মাস দুয়েক আগে যখন যুক্তরাষ্ট্রে নিশ্চিতভাবে একজন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল, তখন কেউ কি ভাবতে পেরেছিল এত অল্প সময়ে এতটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশটি। এরই মধ্যে দেশটি হয়ে উঠেছে গোটা বিশ্বের মধ্যে করোনা সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল। দেশটিতে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে এক লাখে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা পর্যন্ত একটি হিসেবে সিএনএন জানিয়েছে, গোটা দেশে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ১২৪২ জন। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। গতকাল শুক্রবার দেশজুড়ে করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ৪০২ জন। অবশ্য চারটি স্টেটে এই দিনে কেউ মারা যাননি। সেগুলো হচ্ছে- হাওয়াই, রোড আইল্যান্ড, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং ওয়াইমিং।

এদিকে, রহস্যময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন দেশটিতে অবস্থান করা অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। তবে এই সংখ্যাটি এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এরই মধ্যে মোট ১১ জন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতি এবং শুক্রবার একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। কুইন্সের অ্যালমহার্স্ট হাসপাতালে বৃহস্পতিবার মারা যান ৩০ বছর বয়সি ব্যাংকার যুবক। পরদিন তারই ৬২ বছর বয়সী বাবার মৃত্যু হয়। ওই পরিবারের অন্য দুই সদস্যও করোনায় আক্রান্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের একজন স্বজন জানিয়েছেন, ওই পরিবারে এখন ভয়াবহ অবস্থা চলছে। লাশ দুটি দাফন করার মতো কেউ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন পরিস্থিতিতে দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্টেটের বাতাসেও এখন করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি।

নিউইয়র্কের বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস খন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিউ ইয়র্ক যেনো একটি মৃত্যুপুরী এখন। হাসপাতালগুলোতে খুব খারাপ অবস্থা। বেশিরভাগ রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। সেই তুলনায় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট প্রবল। এমনকি ডাক্তাররা একই মাস্ক কয়েকদিন ধরে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়ের বিষয়- বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন করোনাভাইরাসের জীবাণু বাতাসে ভাসতে পারে। ফলে এটি এক ধরনের অ্যারাসোনালাইজড হয়ে পড়েছে। যার কারণে মানুষের মধ্যে সংক্রমণও বাড়তে শুরু করেছে।’

অভিযোগ উঠেছে, আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুযায়ী চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই বলে । স্বয়ং এক স্টেটের গভর্নর এন্ড্র কুওমো বলেছেন, যেখানে ৩০ হাজার ভেন্টিলেটার প্রয়োজন সেখানে রয়েছে মাত্র ৭ হাজার। তিনি ফেডারেল সরকারের কাছে আরো ভেন্টিলেটর চেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ১০০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও এক লাখ ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করবে।

Leave a Reply