বিশ্বের প্রবীণতম মানুষটির ১১২তম জন্মদিনে করোনার বাগড়া

বিশ্বের প্রবীণতম মানুষটির ১১২তম জন্মদিনে করোনার বাগড়া

বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণতম মানুষ বব ওয়েটন। বৃটেনের এই বাসিন্দা আগামীকালই ১১২ বছরে পা দেবেন। কিন্তু জন্মদিন উদ্যাপন করবেন না তিনি। কারণ চারদিকে করোনার হুঙ্কার। তিনি বলেন, সবকিছু বাতিল, কোনো অনুষ্ঠান নয়, কোনো বন্ধু আসবে না, কোনো উদ্যাপন নয়।

বব ওয়েটনের আগে এই গ্রহের সবচেয়ে প্রবীণতম মানুষ ছিলেন চিতেৎসু ওয়াতানাবে। জাপানের এই মানুষটি ১১২ বছর বয়সে মারা যান। এরপর থেকে বব ওয়েটনই প্রবীণতম। বৃটেনের হ্যাম্পশায়ারের অ্যালটন নামক এলাকার বাসিন্দা তিনি। ২৯ মার্চ তার ১১২তম জন্মবার্ষীকি। কিন্তু করোনার কারণে সব কিছুই বাতিল করতে হচ্ছে।

১৯০৮ সালের ২৯ মার্চ বৃটেনের হোল নামক অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন বব ওয়েটন। গত বছরও বব নিজের মতো করে জন্মদিন পালন করেছেন। কিন্তু এবার চাইলেও পারছেন না। কারণ বৃটেনে চলছে লকডাউন। বৃদ্ধদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছে। করোনার বিস্তার রোধেই মূলত চলছে এই লকডাউন। আবার করোনা বৃদ্ধদের জন্য মরাত্মক সমস্যার। তাই বৃদ্ধরা একেবারে ঘরবন্দি।

বব ওয়েটন করোনার মাহামারি নিয়ে আরো একটি মহামারি নিজের চোখে দেখেছেন। ১৯১৮ সালের দিকে স্প্যানিশ ফ্লু সারা বিশ্বে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ে। স্প্যানিশ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে সারা বিশ্বের ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন মানুষ মারা যান। সেসময় ববের বয়স ছিল ১০ বছর। আর একশ দুই বছর পর তিনি আরো একটি মাহামারি নিজের চোখে দেখছেন। ওয়েটন বলেন, আমি যখন বৃদ্ধ হয়ে যাই তখন স্প্যানিশ ফ্লুর গল্প শুধু ইতিহাসের বইয়ে পড়েছি।

তিনি বলেন, ওই সময় আমি সচেতন ছিলাম না। কারণ আমার পরিচিত কোনো ভাই বা বোনা বা কেউই আক্রান্ত হননি। তবে আমি নিশ্চিত ছিলাম তারা সবাই সচেতন ছিলেন। আর এখন বৃদ্ধ। শিশুদের আর বৃদ্ধদের বিশ্ব এক নয়। একটা শিশু পত্রিকা পড়তে পারে না। আর সেসময় রেডিও ছিল না। বর্তমান সময়ে যেভাবে আমরা খবর পাচ্ছি বা দেখতে পাচ্ছি সেভাবে খবরও পাওয়া যেতো না আগে।

ওয়েটন বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেও বেঁচে ছিলেন। তিনি যুদ্ধও করেছেন। কিন্তু করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটা যেন অন্য রকম। করোনার এই সময়ে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো কোনো উপাদানই নেই তার মতে। তিনি বলেন, করোনার কারণে পৃথিবীতে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এটি চিন্তিত করে তুলেছে। কারণ কেউ জানে না কখন কি হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমরা জানতাম কি করতে হবে। জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু এখন কেউই জানে না কিভাবে করোনার বিরুদ্ধে লড়ে জয়লাভ করতে হবে।

Leave a Reply