অবশেষে করোনা থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে আসছে জার্মানির কিট?

অবশেষে করোনা থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে আসছে জার্মানির কিট?

করোনাইভাইরাস থেকে বিশ্বকে রক্ষার স্বপ্ন কি দেখাতে চলেছে ‘বোশ’? জার্মান-ভিক্তিক বিখ্যাত মাল্টিন্যাশনাল প্রকৌশল ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এটি। সদরদপ্তর স্টুগার্টে কাছাকাছি গার্লিনজেনে। বোশ বানিয়েছে কভিড-১৯ পরীক্ষার কিট। মাত্রা আড়াই ঘণ্টার মধ্যে তা ভাইরাস শনাক্ত করতে সক্ষম। এমনটাই বলা হচ্ছে। বোশ কভিড-১৯ টেস্ট কিটের মাধ্যে পরীক্ষা ৯৫ শতাংশ সঠিক বলে দাবি করা হয়েছে।

করোনার বিস্তার ঠেকানোর একমাত্র উপায় মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। বিশেষ করে যারা কভিড-১৯ বহন করছেন তাদের তো সবার থেকে আলাদা হতে হবে। কিন্তু কে এই ভাইরাস বহন করছে তা নিশ্চিত হওয়ার কার্যকর কিট পর্যাপ্ত মিলছে না। তাছাড়া আক্রান্তকে চিহ্নিত করতেও বেশ সময় লেগে যাচ্ছে। এতে করে ভাইরাসের বিস্তার অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেকে বেড়ে গেছে। যেসব কিট হয়ে হইচই চলছে তা একেবারেই অপ্রতুল। এই অপস্থায় করোনায় আক্রান্তকে শনাক্ত করে তাকে আলাদা করার কাজটি দুরূহ হয়ে উঠেছে। ঠিক এই সময়টাতে বোশের মতো নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ৯৫ শতাংশ সঠিকভাবে করোনা শনাক্তের কিট বানানোর খবর সত্যিকার অর্থেই বিশ্বকে স্বস্তি দিতে পারে।

এই কিটের বড় সুবিধা
আগেই বলা হয়েছে, এর সবচেয়ে আশাজাগানিয়া বৈশিষ্ট্য হলো- এটি দ্রুততার সাথে করোনাভাইরাসে আক্রান্তকে চিহ্নিত করতে সক্ষম। ফলে রোগী মিললেই তাকে আইসোলেশনে নেয়া যাবে তার মাধ্যমে আর কারো দেহে ছড়ানোর আগেই। পাশাপাশ একই কিটের মাধ্যমে রোগীর শ্বাসযন্ত্রের আরো অন্যান্য ভাইরাস, যেমন ইনফ্লয়েঞ্জার খবরও মিলবে। নমুনা সন্দেহভাজনের নাক বা গলা থেকে একটি ‘সোয়াবের’ মাধ্যমে সংগ্রহ করে তা সরাসরি কার্টিজে দেয়া হবে। আর কোনো ঝক্কি নেই। এই নমুনা পরীক্ষা করে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিগুলো শনাক্ত করা হবে। এই পরীক্ষায় আর কোনো রাসায়নিক উপাদান বা অন্য কিছু যোগ করার প্রয়োজন পড়বে না। এতে অনেক সময় ও খরচ বাঁচবে। আবার পরীক্ষা প্রক্রিয়া একেবারেই সহজ। এর জন্য কোনো বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই।

নির্ভরতার প্রতীক বোশ
৭৭.৯ বিলিয়ন ইউরোর এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন চার লাখ তিন হাজার কর্মী। পৃথিবীর ১২৫টি অঞ্চলে তাদের কর্মতৎপরতা রয়েছে। ১৮৮৬ সালে রবার্ট বোশ স্টুগার্টে মেধাবী প্রকৌশলী এবং তড়িৎ প্রকৌশলের একটা আদর্শ কর্মক্ষেত্রে সৃষ্টিতে গঠন করেন এই কম্পানি। উদ্ভাবনী ক্ষমতায় নিজেদের প্রমাণ করে তারা সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিও নিষ্ঠা দেখিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান বলে, তারা কেবল গবেষণার খাতিরে গবেষণা করে না। তাদের উদ্ভাবন যেন প্রায়োগিক হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখা হয়।

রবার্ট বোশের এই প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান ড. ভল্কমার ডেনার বলেন, করোনাভাইরাসের এই মহামারীতে যত দ্রুত সম্ভব বোশের কভিড-১৯ টেস্ট কিটকে কাজে লাগাতে চাচ্ছি। এটা বানাতে মাত্র ৬ সপ্তাহ সময় লেগেছে। সার্স-কভ-২ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কোনো মানুষের দেহে থাকলে তা মাত্র আড়াই ঘণ্টায় বেরিয়ে আসবে। ঠিক নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে ফলাফল বেরিয়ে আসা এই সময়ের মধ্যেই ঘটবে। কারো পরীক্ষা করতে হলে তাকে এখানে সেখানে যেতে হবে না। সেখানেই বসে ফলাফল বের করা সম্ভব।

বোশের এই কিট করোনা পরীক্ষার পৃথিবীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় ডায়াগনস্টিক টেস্ট। এটা কেবল কভিড-১৯ পরীক্ষার কিট নয়, শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য সমস্যাও শনাক্ত করা সম্ভব। ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ এবং ‘বি’ এর পরীক্ষা এই কিটে করা যাবে। বোশের এই টেস্ট কিটের মাধ্যমে যেকোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে অতি দ্রুততার সাথে করোনার পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যাও জেনে নেয়া অনেক সময় বাঁচাতে পারে, জানান বোশ হেলথকেয়ার সল্যুশনের প্রেসিডেন্ট মার্ক মেয়ার। তিনি জানান, এপ্রিল থেকেই জার্মানির বাজারে চলে আসবে বোশের এই কিট। একই সঙ্গে ইউরোপ বা পৃথিবীর সবখানেই তা পাঠানো শুরু হবে।

পরীক্ষিত যন্ত্র
বিভিন্ন গবেষণাগারে এই কিটের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সার্স-কভ-২ কিট দিয়ে পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ সঠিক ফল মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান যাচাইয়ের সব চাহিদাই পূরণ করেছে এই কিট। সোয়াব (কাঠি বা চামচ) দিয়ে নাক বা গলা থেকে নমুনা নিয়ে কার্টিজে দিতে হবে। এই কার্টিজে পরীক্ষার যাবতীয় উপাদান দেয়া রয়েছে। কার্টিজে নমুনাসহ সোয়াব দেয়ার পর ভিভালিটিক যন্ত্রটি বিশ্লেষণ শুরু করে দেবে। আড়াই ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। এর মধ্যে পরীক্ষক অন্য কাজও করতে পারবেন। যন্ত্রের পেছনে লেগে থাকতে হবে না।

সূত্র: ই টার্বো নিউজ

Leave a Reply