করোনায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের যে ১৭ শীর্ষ কর্মকর্তার

করোনায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের যে ১৭ শীর্ষ কর্মকর্তার

করোনাভাইরাসের ছোবলে বিপর্যস্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন শীর্ষ কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলির বরাতে এ খবর দিয়েছে মধ্যপ্রচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আল-আরাবিয়া।

বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ১৭ জন। করোনার ছোবলে ইরানের যে ১৭ জন শীর্ষ কর্মকর্তা মারা গেছেন তাঁরা হলেন-

হাবিব বারজেগারি: মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাবিব বারজেগারি করোনাভাইরাসে মারা গেছেন।

হামিদ কাহরাম: প্রাক্তন আইনজীবি হামিদ কাহরামও করোনাভাইরাসে মারা গেছেন বলে ১৯ মার্চ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানিয়েছে। কাহরাম ২০১৭ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় খুজেস্তান প্রদেশে ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানির প্রচার টিমের প্রধান ছিলেন।

আয়াতুল্লাহ হাশেম বাথেই-গোলপাইজানি: ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ হাশেম বাথেইও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ১৬ মার্চ তিনি মারা যান বলে ইরনা নিউজে বলা হয়েছে। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ একটি ধর্মীয় সংস্থা যা সংসদ সদস্যদের তত্ত্বাবধান করে, নিয়োগ দেয় এবং তাত্ত্বিকভাবে সর্বোচ্চ নেতাকে বরখাস্ত করতে পারে।

হাশেম বাথেই মৃত্যুর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমেরিকাকে দোষারোপ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন,’আমার মতে আমেরিকা করোনাভাইরাসের উৎস। আমেরিকান সৈন্যরা চীনে ভাইরাস তৈরি করেছিল এবং ছড়িয়ে দিয়েছে।

নাসের শাবানী: আইআরজিসির সিনিয়র কমান্ডার নাসের শাবানীও করোনভাইরাসে মারা গেছেন। আইআরজিসি ১৩ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। নাসের শাবানীর নির্দেশে ২০১৮ সালের আগস্টে ইয়ামেনের হুথিরা বাব-আল মান্দেবে দুটি সৌদি ট্যাঙ্কার আক্রমণ করে ধ্বংস করে দিয়েছিল।

হোসেইন আসাদোল্লাহী: আইআরজিসির আরেক সিনিয়র কমান্ডার হোসেইন আসাদোল্লাহিও করোনভাইরাসে মারা গেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। শনিবার বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যে ইরাকের সাথে আট বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে (১৯৮০-১৯৮৮) যিনি রাসায়নিক অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছিলেন সেই আসাদোল্লাহী আজ করোনায় মারা গেছেন।

সরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে, ইরাকের সাথে যুদ্ধের সময় ইরানের দেড় লাখেরও বেশি মানুষ রাসায়নিক অস্ত্রের সংস্পর্শে ফুসফুসে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। এই ব্যক্তিরা করোনভাইরাসে বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ।

ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে করোনাভাইরাসে মৃত্যু হওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন- সিরিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত হোসেইন শেইখুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজা রাহচামানি, সংসদ সদস্য ফাতেমেহ রাহবার এবং মোহাম্মদ আলী রামেজানী। এক্সপিডেন্সি কাউন্সিলের মোহাম্মদ মির মোহম্মদী,এবং ভ্যাটিকানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হাদী খোসরোশাহী।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কমপক্ষে ১২ জন শীর্ষ কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে সংক্রামিত হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছে- ইরানের প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরি। পর্যটনমন্ত্রী আলী আসগর মৌসান এবং এক্সপিডিসি কাউন্সিলের সদস্য মোহাম্মদ আলী ইরাভানি।

ভাইরাসটি মহিলা ও পরিবার বিষয়ক উপরাষ্ট্রপতি মাসুমেহ এবেটেকার, উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরাজ হরিচি, শিল্পমন্ত্রী রেজা রহমানি, প্রাক্তন বিচারমন্ত্রী মোস্তফা পূর্ণমোহমদীকেও সংক্রামিত করেছে।

এছাড়া, মোজতাবা জোলনূর, জোহরেহ এলাহিয়ান এবং মাসুমেহে আগাপুর আলিশাহী-সহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী সংক্রামিত হয়েছেন।

Leave a Reply