অবশেষে মিয়ানমারে করোনার থাবা, আক্রান্ত ২ জন

অবশেষে মিয়ানমারে করোনার থাবা, আক্রান্ত ২ জন

করোনা আতঙ্কে কাঁপছে সারা বিশ্ব। পৃথিবীর ১৯৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে মারণ এই ভাইরাস। মৃতের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো করোনার উৎস্থল চীনের পার্শবর্তী দেশ মিয়ানমার এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত ছিল। অং সান সু চির দেশ কিভাবে ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসের থেকে নিজেকে রক্ষা করছে সেটাই ছিল সবার কৌতুহলের বিষয়।

অবশেষে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারেও থাবা বসিয়েছে করোন। দেশটিতে দুইজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যফেরত এ দুজনই দেশটির প্রথম করোনা রোগী।

মিয়ানমারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে জানায়, আক্রান্ত দুজনের একজন ৩৬ বছর বয়সী এবং একজন ২৬ বছর বয়সী। তারা সাম্প্রতিক সময়ে কাদের সঙ্গে মিশেছেন, তাদের চিহ্নিত করার তৎপরতা শুরু হয়েছে।

করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল যে দেশে, সেই চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এমনকি দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে উভয় দেশে তাদের নাগরিকদের অবাধ যাতায়াত ও যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু উহানে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে দেশের সব প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করে মিয়ানমার সরকার। তারই ফলে করোনাকে প্রায় তিনমাস ঠেকিয়ে রাখা গেছে বলে দাবি করে মিয়ানমার।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, করোনার বিস্তাররোধে গত সপ্তাহে মিয়ানমার সব স্থলসীমান্ত বন্ধ করে দেয়। নিষেধাজ্ঞা জারি করে বৌদ্ধ ধর্মীয় নববর্ষসহ সার্বিক আচার-অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক গণজমায়েতের ওপরও। দুইজন শনাক্ত হওয়ায় এখন গণজমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস এখন বৈশ্বিক মহামারি। বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাসটি। এখন পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৮ এবং মারা গেছেন ১৬ হাজার ৫১৪ জন। অপরদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ দুই হাজার ৬৯ জন।

চীনে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম দিকে দেশটি পরিস্থিতি আঁচ করতে ব্যর্থ হলে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে তৃতীয় মাসে এসে পরিস্থিতি কিছুটা সামলে নিয়েছে চীন। সেখানে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ১৭১ এবং মারা গেছেন তিন হাজার ২৭৭ জন।

চীনে লাশের সারি ফেলে করোনাভাইরাস অসতর্কতা ও অসচেতনতার সুযোগ বুঝে এখন তাণ্ডব চালাচ্ছে ইউরোপে। সবচেয়ে বড় বিপদে পড়েছে ইতালি। সেখানে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ৬০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে মৃত্যু হয়েছে ছয় হাজার ৭৭ জনের।

Leave a Reply