চুল মেলেনি, তাই নিশো মেহজাবীনের শুটিং বন্ধ

চুল মেলেনি, তাই নিশো মেহজাবীনের শুটিং বন্ধ

নাটকের গল্প একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে কেন্দ্র করে। সমাজের এই শ্রেণির মানুষদের বেশভূষা অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা থাকে। যথাযথ সেই চরিত্রে রূপ দিতে অনেক সময় লাগবে, সেটা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন অভিনেতা। লোকেশন দূরে থাকায় সকাল আটটায় বের হয়েছিলেন শুটিং দলের সঙ্গে। গল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার জার্নি শেষে লোকেশনে পৌঁছেই সঙ্গে সঙ্গে মেকআপের চেয়ারে বসে যান অভিনেতা আফরান নিশো। দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে মেকআপ চলে সন্ধ্যা নাগাদ। শেষ পর্যন্ত ১৪ মার্চ সেদিনের শুটিংয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো হয়নি এ অভিনেতার। নির্মাতা বাধ্য হয়ে শুটিং বন্ধ করে দেন।

বাতিল হয় আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরীর ২৬ মার্চের নাটকের শুটিং। এ প্রসঙ্গে আফরান নিশো বলেন, ‘মেকআপ করার পর আমি মানসিকভাবে চরিত্রের লুক নিয়ে তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না। যতবার মাথায় আলগা চুল (উইগ) লাগানো হয়, সেটা কোনো না কোনোভাবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে যাচ্ছিল না। মেকআপে সন্তুষ্টি পাচ্ছিলাম না। অনেক চেষ্টা করেও যখন হচ্ছিল না, তখন গল্পটি নষ্ট না করে সিদ্ধান্ত নিই শুটিং না করার। আমি চেয়েছি তৃতীয় লিঙ্গের এই চরিত্রটি দেখে যেন দর্শকের মনে না হয় জোর করে চরিত্রটি করেছি।’

নাটকের নাম ‘তৃতীয় জন’। পরিচালনা করেছেন তুহিন হোসেন। লিখেছেন সরোয়ার রেজা। নির্মাতা জানান, ‘মেকআপ শিল্পী বারবার চেষ্টাতেও পুরোপুরি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের চরিত্রে মানানসই মেকআপ করতে পারেননি। যতবারই মেকআপম্যান মাথার আলগা চুল সেট করিয়েছেন, ততবারই সেটাকে মানানসই হয়নি। পরে আফরান নিশো ও মেহজাবীনের সঙ্গে পরামর্শ করে শুটিং আপাতত স্থগিত করতে হয়েছে।’

আফরান নিশো এর আগে এমন চরিত্রে অভিনয় করেননি। প্রথমবারের মতো নতুন এই চরিত্রটি নিয়ে বরাবরের মতোই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। এ অভিনেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশ কদিন ধরেই চরিত্রের খুঁটিনাটি নিয়ে বেশ আলাদা একটা ভাবনায় ছিলেন তিনি। রাস্তায় যখনই কোনো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের দেখা পেয়েছেন, সাদরে তাঁদের ডেকে ভাব জমিয়েছেন, তাঁদের দৈনন্দিন নানা বিষয় নিয়ে কথাও বলেছেন। মূলত চরিত্রটির জন্য খুব কাছ থেকে কীভাবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা কথা বলে, হাত ব্যবহার করে, দৈহিক ভঙ্গিসহ তাদের কিছুটা জানার চেষ্টা করেছেন এ অভিনেতা। শুধু তা–ই নয়, নিশোকে আরও বেশ ভাবনায় ফেলে দেয় ১৯৭১ সালের এই গল্পটি।

এ অভিনেতা বলেন, ‘গল্পটি আজ থেকে প্রায় অর্ধশতক আগের। আজ যেভাবে একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ কথা বলছেন, সেটা ৪৯ বছর আগে অবশ্যই ভিন্ন ছিল। এই সময়ের সঙ্গে সেই সময়ে তাদের কথা বলার ধরন, ভাষার ব্যবহার অবশ্যই এক ছিল না। সেই বিষয়গুলো আয়ত্তে আনার চেষ্টা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের যে মানুষদের চরিত্রে আমার অভিনয় করার কথা ছিল, সেই মানুষটার একটি রোগ ছিল। যে কারণে সে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মধ্যে অবহেলিত ছিল। সব মিলিয়ে চরিত্রটি অনেক চ্যালেঞ্জিং।’

২৬ মার্চে যখন চারদিকে গোলাগুলির শব্দ, তখন শহর থেকে জীবন বাঁচাতে পালানোর জন্য তৈরি হয় মেহজাবীন চৌধুরী। ‘তৃতীয় জন’ নাটকের গল্পে সন্তানসম্ভবা একজন নারীর চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল এ অভিনেত্রীর। চরিত্র অনুযায়ী আগেই থেকেই মেকআপ নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন মেহজাবীন। তাঁর সাজসজ্জা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন নির্মাতা। কিন্তু নিশোর মেকআপ ঠিকঠাক না হওয়ায় তাঁকেও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়নি। গল্পের জন্য ছাড় দিতে চাননি এ অভিনেত্রী। আফরান নিশো চরিত্র নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হলেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেন চান মেহজাবীন।

শুটিং স্থগিত করলেও সেদিনের জন্য কোনো পারিশ্রমিক তারকারা নেবেন না। শুটিং বাতিল করায় অন্যান্য খরচ বাবদ প্রযোজকের অর্ধলক্ষ টাকার বেশি ক্ষতি হয়। নাটকটি আবার কবে শুটিং শুরু হবে জানতে চাইলে ১৫ মার্চ নির্মাতা বলেন, উত্তরায় দুজন মেকআপম্যান নিয়ে নিশোর মাথায় প্রস্তুতিমূলক উইগ বসানো হবে। সেটা যদি তৃতীয় লিঙ্গের লুকে ঠিকঠাক মিলে যায়, তাহলে দু–এক দিনের মধ্যেই আবার শুটিং শুরু করবেন।

Leave a Reply