দেশের শীর্ষস্থানীয় ২৩ কোম্পানি

দেশের শীর্ষস্থানীয় ২৩ কোম্পানি

দেশের অর্থনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্যক্তি খাত। এই বেসরকারি খাত নানাধর্মী উপখাতে জড়িত। তবে তারা বেশির ভাগই উৎপাদন ও সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে দেশের বৃহৎ কোম্পানিগুলো মূলত উৎপাদন খাতেই বেশি সক্রিয়। পারিবারিক ব্যবসা থেকেই বৃহৎ কোম্পানিগুলোর উত্থান। আর তারা বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্য উৎপাদনও করে আসছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটির নাম ‘বাংলাদেশস জার্নি টু মিডল-ইনকাম স্ট্যাটাস: দ্য রোল অব দ্য প্রাইভেট সেক্টর’। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি, আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, মজুরি বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য নিরসন—সবই হচ্ছে ব্যক্তি খাতের হাত ধরে। মোট শ্রমশক্তির ৯৫ শতাংশ বা ৫ কোটি ৭০ লাখ কর্মসংস্থান হয় ব্যক্তি খাতে। এ ছাড়া দেশের মোট রাজস্বের ৮ শতাংশেরই জোগান দিচ্ছে শীর্ষ ১০ করদাতা প্রতিষ্ঠান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১০০–এর বেশি পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত বড় শিল্প গ্রুপ আছে। তবে এর মাত্র ১০ শতাংশ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। দেশের এই বেসরকারি খাতকে নানা স্তরের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। যেমন, প্রথম স্তরের সময়কাল ছিল ১৯৭১ থেকে ১৯৮০–এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত। পাকিস্তানিরা তখন বিদায় নিয়েছে। এরপর শিল্প খাতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ধীরে ধীরে হলেও পা রাখতে শুরু করেন। বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়ারও শুরু হয়। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। তৈরি পোশাক খাতও সফলতা পেতে শুরু করে এ সময়েই।

দ্বিতীয় স্তরের সময়কাল ১৯৯০–এর দশক থেকে, শেষ ২০১০ সালে। এ সময়টা ছিল বেসরকারি খাতের জন্য স্বর্ণযুগের মতো। অর্থনীতির উদারীকরণ নীতি ও একটি কার্যকর শিল্পনীতির সুফল পুরো মাত্রায় গ্রহণ করে দেশের বেসরকারি খাত। ক্রমবর্ধমান সেবা খাত, বিশেষ করে আর্থিক সেবা খাত এবং ওষুধ ও আবাসন খাতের বিস্তার ঘটে এ সময়। এরপরের স্তর শুরু ২০১০ সালের পর থেকে। এ সময়টা হচ্ছে নিজেদের সুসংহত করার সময়। বেসরকারি খাত এখন সেটাই করছে।

আইএফসির প্রতিবেদনটিতে বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়। যেমন, এক বছরের মধ্যে ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা, খেলাপি ঋণ আদায়ের কৌশল নির্ধারণ, বিদেশি ঋণ ও সুদহারের সীমা উদারীকরণ, ব্যাংক খাতে একীভূত হওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ, করপোরেট বন্ড ছাড়ার প্রক্রিয়া শিথিল, বিদেশি লেনদেনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার, কাস্টমস ও পরিবহন (লজিস্টিক) ব্যবস্থাপনায় উন্নতি, বিভিন্ন আইনের সংস্কার, অবকাঠামো জোরদার, করকাঠামো সংস্কার, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং করপোরেট সুশাসনে উন্নতি।

প্রতিবেদনটিতে দেশের বেসরকারি খাতের বিশ্লেষণ ছাড়াও আয়ের দিক থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমন শীর্ষ ২৩টি বড় গ্রুপ বা কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে। দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রামভিত্তিক এ কে খান গ্রুপ আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে বড়। শীর্ষ ১০-এ এরপরেই আছে বসুন্ধরা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, যমুনা গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, বেক্সিমকো, ইউনাইটেড গ্রুপ ও সিটি গ্রুপ। এদের সবার বার্ষিক আয় ১০০ কোটি ডলার বা তার বেশি। ১০০ কোটি ডলার আয়ের আরও তিন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পিএইচপি গ্রুপ, প্রাণ ও পারটেক্স গ্রুপ। পরের ১১ শীর্ষ গ্রুপের আয় ৫০ থেকে ৯০ কোটি ডলারের মধ্যে। এই তালিকায় আছে নোমান গ্রুপ, বিএসআরএম, কেডিএস গ্রুপ, হা-মীম, এসিআই লিমিটেড, ট্রান্সকম, ভিয়েলাটেক্স, প্যাসিফিক জিনস, কনফিডেন্স গ্রুপ ও ওয়ালটন।

Leave a Reply