সীতাকুণ্ডে শিব চতুর্দশী মেলা সম্পন্ন, ইকোপার্কে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

সীতাকুণ্ডে শিব চতুর্দশী মেলা সম্পন্ন, ইকোপার্কে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় শিব চতুর্দশী মেলা শেষ হয়েছে। উৎসব শেষ হয়ে যাবার পরের দিনও এই তীর্থভূমি লাখ পূণ্যার্থীর ভিড়ে মুখরিত ছিলো। যা এ মেলার জন্য একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। ফলে এদিনও মহাতীর্থের মঠ-মন্দিরগুলোতে ছিলো উপচেপড়া ভিড়। তবে দর্শনার্থীরা অনেকেই চন্দ্রনাথ ধাম সংলগ্ন ইকোপার্কে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কলিযুগের মহাতীর্থ খ্যাত সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধামে আনুমানিক সাড়ে ৩’শ বছর ধরে শিব চতুর্দশীর পূণ্য তিথিকে কেন্দ্র করে তিন দিন ব্যাপী সুবিশাল মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই তিথিতে দেশ-বিদেশের ১০-১৫ লাখ পূণ্যার্থী এসে সকল মঠ-মন্দির দর্শন ও দেবাধিদেব মহাদেবের সন্তুষ্টির লক্ষে জপ-স্তব ও পূজা করেন। এতে তারা তীর্থ দর্শনের পূণ্যলাভ করেন। হিন্দু পুরোহিতদের মধ্যে পৃথিবীর সকল তীর্থ দর্শন করেও যদি কোন হিন্দু সীতাকুণ্ড মহাতীর্থ দর্শন না করেন তবে তার তীর্থ দর্শন অসম্পন্ন রয়ে যায়। তাই পৃথিবীর সকল ধর্মপ্রান হিন্দুরা জীবনে একবারের জন্য হলেও সীতাকুণ্ডে এসে ভৈরব, শম্ভুনাথ, বীরুপাক্ষ ও চন্দ্রনাথ রুপে থাকা দেবাধিদেব মহাদেবের পূজা ও আরাধনা করেন।

প্রতিবছরই মেলার তিন দিন এই মহাতীর্থে লাখ লাখ ভক্ত সমবেত হন। কিন্তু তিন দিনের মেলা শেষে এখানে আর কোনো তীর্থযাত্রীর দেখা মেলে না। তবে মেলা শেষেও কিছু দোকানপাট একই স্থানে ১৫ দিন পরে অনুষ্ঠিত দোলপূর্ণিমা মেলা পর্যন্ত থেকে যায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলায় এসে কেনাকাটা করেন। কিন্তু ব্যতিক্রম হয়েছে এবার।
গতকাল রবিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, একদিন আগে মেলা শেষ হয়ে গেলেও গতকালও লক্ষাধিক তীর্থযাত্রীর পদভারে মুখরিত ছিল পাহাড় চূড়া ও সমতলের সাড়ে তিন কি.মি. এলাকার তীর্থভূমি।

মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী বলেন, এবারের মেলাটি আগের চেয়েও অনেক আকর্ষনীয় ছিলো। এবার রেকর্ড সংখ্যক ২০ লক্ষাধিক পূণ্যার্থীর আগমন হয় মেলার তিন দিনে। এর ফলে হাজার হাজার গাড়ির ভিড়ে পৌর এলাকায় দাড়ানোও মুস্কিল হয়ে যায়। এছাড়া অন্যবার মেলার শিব চতুর্দশীর পরেই অমাবস্যা তিথিতে পূর্ব পূরুষদের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ-তর্পন শেষে ফিরে যান পূণ্যার্থীরা। কিন্তু এবার সেই শ্রাদ্ধ-তর্পনের তিথি পড়ে যায় মেলার আনুষ্ঠানিকতার পরের দিন। এর ফলে অসংখ্য তীর্থ যাত্রী মেলা শেষেও পূর্ব পূরুষদের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ-তর্পন করার লক্ষে রয়ে যান। এ সংখ্যাও লক্ষাধিক হবে। এ কারণে মেলা শেষ হয়েও যেন হলো না!

সোমবার থেকেই এসব তীর্থ যাত্রী নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবার সম্ভাবনা আছে বলে ধারণা করছেন মেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

ছিনতাইয়ের অভিযোগ

মেলার শেষ দিন শনিবার রাতে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক হয়ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে আসা যাওয়ার সময় বেশ কিছু দর্শনার্থী ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। কিন্তু মেলা কমিটি ও পুলিশ এসব বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (ইন্টিলিজেন্স) সুমন বণিক বলেন, এবারের মেলাটি ছিলো বিশাল। ২০ লাখ মানুষের ভিড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিনই ছিলো। কিন্তু আমাদের ৫ শতাধিক পুলিশ সদস্য ও স্বেচ্চাসেবক, মেলা কমিটি সবার চেষ্টায় মেলাটি সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আর ইকোপার্কে তীর্থ যাত্রীদের ছিনতাইয়ের যে অভিযোগ তার সত্যতা পুলিশ পায়নি বলে জানান তিনি।

Leave a Reply