চীন থেকে এখন নিজ দায়িত্বে ফিরতে হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চীন থেকে এখন নিজ দায়িত্বে ফিরতে হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চীন থেকে বাংলাদেশি কাউকে এই মুহূর্তে সরকারিভাবে দেশে ফেরানো হচ্ছে না। তবে ব্যক্তিগত খরচে কেউ ফিরলে পরবর্তী ব্যবস্থা সরকার নেবে।

তিনি বলেন, আমরা খুব সংবেদনশীল, তাদের বাবা-মা অনেকে বলছেন তাদেরকে নিয়ে আসার জন্য। আমরা তাদেরকে বলেছি, আপনারা যদি নিয়ে আসেন, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। তারা আসলে আসতে পারে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপাতত ৭১৭ জনকে আনা হচ্ছে না। তবে তারা স্বেচ্ছায় নিজ খরচে আসতে পারেন। কারণ, তাদেরকে আনার জন্য এরইমধ্যে আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বিমানের ক্রুরা কেউ বাইরে যেতে পারছে না, বিমান কোথাও যেতে পারছে না। সিঙ্গাপুরে পর্যন্ত যেতে পারছে না।

তিনি বলেন, চীন চায় না করোনাভাইরাস তাদের দেশের বাইরে ছড়াক। তবে সিঙ্গাপুরের একজন ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে এখনও আক্রান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় আগে থেকেই চীনা নাগরিক ও আমাদের দেশের কিছু নাগরিকদের জন্য ‘অন এরাইভাল ভিসা’ চালু ছিল। সেটি আপাতত আমরা বন্ধ করেছি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশিদের চীন সরকার নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া ও পানিসহ সব কিছু সরবরাহ করছে। এমনিতে এর আগে চীন থেকে আসা ৩১২ জনকে ঢাকার হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তাদেরকে আরো কিছুদিন রাখা হবে। তারপর তারা তাদের পরিবারের কাছে চলে যাবে।

মোমেন বলেন, আমাদের দেশ খুব ঘনবসতিপূর্ণ, আমাদের কোয়ারেন্টিনেও কিছু সমস্যা হয়। কারণ মা, বাবা, আত্মীয়স্বজন, আশপাশের লোক দেখা করতে চলে যায়। কোয়ারেন্টিনের লোক কেউ নামাজ পড়তে গেলে তো আমরা তাকে আটকাতে পারি না। নামাজে গেলে স্পর্শ থেকেও সেটা ছড়াতে পারে।

তিনি বঙ্গবন্ধুর মানবতার বিভিন্ন উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, দেশে দারিদ্র্যসীমা অর্ধেকে নেমে গেছে। বর্তমানে দেশে সাড়ে ১০ লাখ মানুষ দরিদ্র রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় এটি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আরও কমিয়ে আনা হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বমানবতার উদাহরণ ঘটিয়েছেন। বিশ্ব দরবারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মানবতার মা’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরীর সভাপত্বিতে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুশফিক এম. চৌধুরী, ট্রেজারার মোর্শেদা চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. নূরুল ইসলাম, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply