পিলখানা হত্যা মামলা রায়ের বাংলায় লেখা অংশ বাংলা একাডেমিতে হস্তান্তর

পিলখানা হত্যা মামলা রায়ের বাংলায় লেখা অংশ বাংলা একাডেমিতে হস্তান্তর

বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহের জেরে পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাযজ্ঞের মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের মধ্যে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর বাংলায় লেখা অংশ বাংলা একাডেমির কাছে হস্তান্তর করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

আজ মঙ্গলবার সকালে একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কাছে তার কার্যালয়ে এই রায়ের অনুলিপি হস্তান্তর করা হয়। হাইকোর্টের সর্বমোট ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে বাংলায় লেখা ১৬ হাজার ৫শ ৫২ পৃষ্ঠার অনুলিপি সংরক্ষণের জন্য দেওয়া হয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ও হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. আব্দুর রহমান রায়ের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। এর আগে সোমবার একই অংশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিডিআরের ১৩৯ জন সদস্যের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করে বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের তিন বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নভেম্বর প্রকাশ্য আদালতে সংক্ষিপ্ত রায় দেন। রায়ে ১৩৯ জনকে ফাঁসি, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২শ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া নিম্ন আদালতের সাজা বিরুদ্ধে ২৮ জন আপিল না করায় তাদের সাজা বহাল রাখা হয়। সবমিলে ৫শ ৫২ জনকে সাজা দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ে ২৮৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি মো. শওকত হোসেন মূল রায় লিখেছেন।

তিনি লিখেছেন ১১ হাজার ৪শ ৭ পৃষ্ঠা, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী লিখেছেন ১৬ হাজার ৫শ ৫২ পৃষ্ঠা এবং বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার লিখেছেন ১১শ পৃষ্ঠা। এর মধ্যে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর লেখা রায়টি পুরো বাংলায় লেখা। এই তিনজনের লেখা রায় একত্রিত করে গত ৮ জানুয়ারি স্বাক্ষরের পর সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়। এরপর তা সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এ অবস্থায় বিচারপতি মো. আবু জাফরের বাংলায় লেখা রায়টি বাংলা একাডেমি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় বিচার শেষে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত রায় দেয়। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর ২৭৮ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। রায়ের আগেই বিচারকালে ৪ জন মারা যায়। এরপর ফাঁসির আসামিদের সাজা অনুমোদনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। কারাবন্দি আসামিরা সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও পৃথক তিনটি আপিল করা হয়। সব আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন।

Leave a Reply