করোনাভাইরাস : একে একে চার দেশ ফিরিয়ে দিল জাহাজটিকে

করোনাভাইরাস : একে একে চার দেশ ফিরিয়ে দিল জাহাজটিকে

প্রতিদিনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাওয়া যাচ্ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে সূত্রপাত প্রাণঘাতী এই করোনাভাইরাসের। আর এই ভাইরাস ঠেকাতে দুই সপ্তাহ ধরে সাগরে ভাসতে থাকা একটি জাহাজকে নিজেদের সমুদ্রবন্দরে নোঙর করতে নিষেধ করে দিয়েছে থাইল্যান্ড।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, করোনা আতঙ্কের মধ্যেই গত দুই সপ্তাহ ধরে সমুদ্রে ভাসছে হল্যান্ড আমেরিকা লাইনের ওয়েস্টারডাম নামের একটি শিপ। এটিতে রয়েছে দুই হাজার দু’শ ৫৭ জন যাত্রী। একপর্যায়ে নোঙর করতে যায় থাইল্যান্ডের সমুদ্রবন্দরে। কিন্তু দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের বন্দরে এই জাহাজের নোঙর করায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বলা হচ্ছে, এই জাহাজটিতে কয়েকজন ব্যক্তি করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে।

আজ মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী অনুটিন চার্নভিরাকুল এক ফেসবুক পোস্টে নিষেধাজ্ঞার এই ঘোষণার কথা জানান। এতে তিনি জানান, ওই জাহাজকে ব্যাংককের কাছে বন্দরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এর আগেও এই জাহাজটি তিনটি দেশের সমুদ্রবন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো দেশই অনুমতি দেয়নি। জাপান, ফিলিপাইন ও গুয়াম; তাদের বন্দরে এই জাহাজকে প্রবেশ করতে দেয়নি। করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষায়া সমুদ্রের বুকে ভাসিয়ে রাখা হয়েছে এই জাহাজকে।

এদিকে, কার্নিভালের ডায়মন্ড প্রিন্সেস নামের একটি প্রমোদতরীকেও জাপান সমুদ্রের বুকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখেছে। ওই জাহাজটিতে রয়েছে তিন হাজার সাতশ মানুষ। জাহাজটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। আর জাহাজটিতে কারোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি হংকং ছেড়ে আসে ওয়েস্টারডাম। সোমবার শোনা যাচ্ছিল জাহাজটি থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে নোঙর করবে। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে জানা যায়, সেই প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছে ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ। থাইল্যান্ডের প্রত্যাখ্যানের পর জাহাজটিতে আটকে থাকা কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন।

হল্যান্ড আমেরিকা লাইন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, যেকোনো বন্দরে নোঙর করা নিয়ে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। আর আমরা সক্ষম হয়ে গেলেই আপডেট দেওয়া হবে। থাইল্যান্ডকে দেওয়া প্রস্তাব নাকচ সম্পর্কে সবাই অবগত রয়েছেন বলেও জানানো হয়। তারা জানান, আমরা জানি যে, এটি আমাদের অতিথি এবং তাদের পরিবারের জন্য বিভ্রান্তিকর। আমরা তাদের ধৈর্য্যের প্রশংসা করি।

হল্যান্ড আমেরিকা লাইন বলেছে, জাহাজটি কোয়ারেন্টাইনে নেই। এতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জাহাজটিতে পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে বলে তাদের ওয়েবসাইটে জানানো হয়।

Leave a Reply