উহান থেকে বাংলাদেশিদের আনতে বিমান যাচ্ছে আজ

উহান থেকে বাংলাদেশিদের আনতে বিমান যাচ্ছে আজ

চীনের উহান থাকা ৩৪১ বাংলাদেশিকে নিয়ে আসতে আজ শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা ছাড়বে। বাংলাদেশি যাত্রীদের নিয়ে রাতে ওই ফ্লাইটটি ফিরে আসার কথা। দেশে ফেরার পর বাংলাদেশিদের প্রথমে কোয়ারেন্টাইনের জন্য কুর্মিটোলা হজক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশিদের আনতে আমাদের একটি ফ্লাইট চীনে যাচ্ছে। তাদের নিয়ে আসার জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ফ্লাইটে যাওয়া ক্রুদেরও মেডিক্যাল ইনস্ট্রাকশন দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকাল ৩টার দিকে ৪১৯ জন যাত্রী বহনে সক্ষম একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ চীনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। রাত দেড়টার দিকে উড়োজাহাজটির ফিরে আসার কথা। তবে দেশের ফেরার পর স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন না উহান ফেরত বাংলাদেশিরা। বিমানবন্দর থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে কুর্মিটোলা হজক্যাম্পে। সেখানে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থায় তাদের রাখা হবে। স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার জন্য ১৪ দিন পর্যন্ত তাদের সেখানে রাখা হতে পারে।

চীন থেকে ফেরত আসাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রসঙ্গে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমরা আশা করছি ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত কেউ নেই। তার পরও আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। হজক্যাম্পে তাদের রাখা হবে। সেখানে আমাদের চারটি মেডিক্যাল টিম থাকবে। তাদের সেখানে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ও নির্ধারিত ১৪ দিনের মতো পর্যবেক্ষণে রাখার পর ফেরত আসা বাংলাদেশিরা বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বৃহস্পতিবার বিকালে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চীনে অনুমতি পেলে বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য উড়োজাহাজ তৈরি রাখা হয়েছে। তাদের আলাদাভাবে রাখতে হাসপাতালে বিশেষ আয়োজন করেছি। আনার পরে দায়িত্ব স্বাস্থ্যমন্ত্রীর।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। এর পর চীনের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ইতোমধ্যে বিশ্বের এক ডজনের বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।

এ পর্যন্ত চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৩ জনে। এছাড়া এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০০০ ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া চীনের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) জেনেভায় এক জরুরি বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেয় সংস্থাটি।

Leave a Reply