৫০ হাজার দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি, ২০০ মুজিব কিল্লা গড়া হবে

৫০ হাজার দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি, ২০০ মুজিব কিল্লা গড়া হবে

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনের জন্য ২০ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ২৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে গৃহীত ২০ দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-এ বছরের ১৭ মার্চ সিপিপি কর্মসূচি উদ্বোধন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট জাতির পিতার বিভিন্ন ছবি বা অন্যান্য প্রামাণ্য চিত্র সমন্বয়ে দশ মিনিটের ডকুমেন্টারি ভিডিও চিত্র প্রস্তুত করা; ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১ জুলাই এক লাখ স্বেচ্ছাসেবকের মহাসম্মেলন আয়োজন; ২ জুলাই ‘বঙ্গবন্ধুর জীবন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সারাদেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ৫০ হাজার দুর্যোগ সহনীয় বাড়ী উদ্বোধন করা হবে ২০২১ সালের ফ্রেবুয়ারিতে। একই মাসে অন্তত ২০০টি মুজিব কিল্লা উদ্বোধন করা হবে। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমণ দিবসে এবছর ১৩ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু অংশগ্রহণ করেছেন এমন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক ছবি সম্বলিত একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করা হবে। বছরব্যাপী মুজিব শতবর্ষ লেখা কলম/গেঞ্জি/ক্যাপ/নোটপ্যাড/কোটপিন ইত্যাদি তৈরি করে তা বিতরণ করা হবে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’-এর আওতায় গ্রাম এলাকায় ৫ হাজার ব্রিজ তৈরি ও ৩ হাজার কিলোমিটার এইচবিবি করণ রাস্তা উদ্বোধন করা হবে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ। ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভিত্তিক গীতিনাট্য তৈরি করা হবে এ বছরের ডিসেম্বরে। একইমাসে ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজন করা হবে।

এ বছরের জুনে আয়োজন করা হবে ‘প্রতিবন্ধিতাবান্ধব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ফেব্রুয়ারিতে দুর্যাগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মী সমাবেশ; ডিসেম্বরে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালিপাড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী মাটির রাস্তা, ব্রিজ, হেরিং বোন বন্ড রাস্তা, স্ট্রিট লাইট, বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও মুজিব কিল্লা নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইনোভেশন শোকেচিং; একই মাসে সারাদেশে অতিদরিদ্র ৫০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে ২ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ টাকা প্রদান, দেশের প্রতিটি গ্রামে একটি করে অতিদরিদ্র পরিবারের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাড়ী নির্মাণ করা হবে। একইবছরের মার্চে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে শীতবস্ত্র প্রদান করা হবে। চলমান কার্যক্রম হিসেবে সারাদেশের ৯ লাখ ৬৭ হাজার শ্রমিককে ‘পরিচ্ছন্ন গ্রাম পরিচ্ছন্ন শহর’ কর্মসুচির আওতায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাস্তা/ড্রেন/রেভিনিউ ডাক বহির্ভূত বাজার ঝাড়-ঝোপ ইত্যাদি পরিচ্ছন্ন করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

বছরব্যাপী টিআর/কাবিখা/কাবিটা/অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসুচির মাধ্যমে কি পরিমাণ দরিদ্রতার হার কমেছে এবং কি ধরণের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে তা মুজিব বর্ষ উপলড়্গ্যে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নাটিকা প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। আর জাতীয় কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত কর্মসুচিতে জেলা, উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে এ মন্ত্রণালয়ের/অধিদপ্তরের ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

Leave a Reply