রহস্যময় ভাইরাস আতঙ্কে চীন

রহস্যময় ভাইরাস আতঙ্কে চীন

চীনে এক রহস্যময় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসের কারণে দেশটিতে ইতোমধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। এই প্রেক্ষিতে দেশটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চীনে এই রহস্যজনক ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত লোকের সংখ্যা সরকারী পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি। নতুন ভাইরাসের ৪৫টি ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ভাইরাসে সংক্রামিত লোকের সংখ্যা ১৭০০ এর কাছাকাছি।

গত ডিসেম্বরে উহান শহরে এই ভাইরাসের কারণে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, এই ভাইরাসের কারণে পাঁচ দিনের মধ্যে ফুসফুসে যক্ষ্মার সংক্রমণ ঘটে। তারপরেই একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যায়। সবশেষে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

চীনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ভাইরাসের সংক্রমণে মধ্য চীনের উহানে ৬৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই অঞ্চলটিকেই ‘সার্স’ (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরাটরি সিন্ড্রোম)-এর জীবাণু সংক্রমণের উৎসস্থল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনে এখন আতঙ্কের বড় কারণ ‘সার্স’। এর ভয়াবহতা আগেও দেখেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটি। ২০০২ থেকে ২০০৩ সালে চীনের মূল ভূখণ্ডে ৩৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় হংকংয়ে মারা যান আরও ২৯৯ জন। এবারে ইতিমধ্যেই ৪১ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে।

উহানের স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন ১২ জন। তাঁরা হাসপাতাল থেকে ছাড়াও পেয়েছেন। কিন্তু ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সর্বশেষ যিনি মারা গিয়েছেন, তাঁর রোগ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর। পাঁচ দিনের মধ্যেই অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটে। প্রথমে ফুসফুসে যক্ষ্মা বা টিবি-র সংক্রমণ ঘটে। এরপরে শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু ঘটে।

এদিকে, থাইল্যান্ড ও জাপানেও এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর মিলেছে। তবে দু’দেশের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিরা সম্প্রতি চীনের উহান প্রদেশে গিয়েছিলেন।

উহান প্রশাসনের সন্দেহ, সি-ফুড বাজার থেকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও মানুষের থেকে অন্য মানুষের শরীরে সংক্রমণের জোরদার প্রমাণ মেলেনি। যদিও এই আশঙ্কা এখনই উড়িয়ে দিতে রাজি নয় প্রশাসন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক চিকিৎসক জানান, যদি সামান্য কিছু মানুষের থেকে অন্য মানুষের দেহে সংক্রমণের ঘটনা জানা যায়, সেটা খুব অবিশ্বাস্য হবে না। বিশেষ করে একই পরিবারের সদস্যের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতেই পারে। যেমন, ভাইরাস আক্রান্ত একজন লোক সি-ফুড হোলসেল মার্কেটে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। সেখান থেকেই তাঁর সংক্রমণ হয়েছে বলে চিকিৎসকদের অনুমান। কিন্তু তাঁর স্ত্রী ওই বাজারে কাজ না করলেও একই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনিও।

বিশেষজ্ঞরা জানান, রহস্যময় ভাইরাসটি করোনাভাইরাস পরিবারের হতে পারে। এই ভাইরাসগুলো কখনও কখনও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সামান্য সর্দিজ্বরকে ‘সার্স’ বা ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরাটরি সিন্ড্রোম’-এর মতো ভয়াবহ রোগে রূপান্তরিত করতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে দক্ষিণ চীনে ‘সার্স’-এর প্রথম সন্ধান মিলেছিল। এরপরে পৃথিবীর অন্তত ৩৭টি দেশ থেকে আট হাজার মানুষের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ৮০০ লোক মারা গিয়েছেন ‘সার্স’-এ। এক পর্যায়ে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার ‘সুখবর’ দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : বিবিসি, ওয়েবসাইট

Leave a Reply