দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে

কয়েকদিন বিরতির পর উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে আবারো বেড়েছে শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশা আর ঠাণ্ডা বাতাসে দুর্ভোগ বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের। যেদিন সকালেই সূর্যের দেখা মিলে সেদিন খানিকটা স্বস্তি পায় এ জেলার বাসিন্দারা।

গত দুদিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। কমে আসছে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধানও।

এবার পৌষের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অধিকাংশ সময় পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তবে বেলা ডোবার সাথে সাথেই ঘন কুয়াশার সাথে সাথে কমে আসছে তাপমাত্রা। একই সময় প্রায় সারা দিনই হিমালয়ের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে চলেছে। সন্ধ্যা থেকে রাত ও রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারপাশ।

শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে দুর্ভোগও বাড়ছে জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে রাত কাটে এসব নিম্ন আয়ের মানুষের। খড়কুটো জ্বালিয়ে তারা শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। রাত বাড়ার সাথে সাথে রাস্তাঘাট হাঁটবাজার ফাঁকা হয়ে আসছে।

এদিকে, সরকারি বেসরকারিভাবে জেলায় এবার ৪৫ হাজার শীতবস্ত্র ও দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও এক লাখ টাকার শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। তবে দুস্থ শীতার্তদের কোনো তালিকা প্রশাসনের কাছে না থাকায় শীতবস্ত্র সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ সম্ভব হয়ে উঠছে না। সেইসঙ্গে বিরাট অংকের দরিদ্র শীতার্তের তুলনায় সরকারি বরাদ্দ খুবই কম। এছাড়া শীতের তীব্রতা বাড়ায় হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে প্রতিদিন শীতজনিত রোগীর ভিড় থাকছেই।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের বেশিরভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। যারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারাই কেবল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে কৃষি ফসলের তেমন ক্ষতি এখনো লক্ষ্য করা যায়নি। শুরু থেকে বোরো বীজতলা পলেথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ায় শীতের তেমন প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা আবারো কমে আসছে। এখন মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বয়ে চলেছে এ জেলার উপর দিয়ে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। সেইসঙ্গে হিমালয়ের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা ঠাণ্ডা বাতাস সরাসরি বয়ে চলেছে এ জনপদের ওপর দিয়ে। জানুয়ারিতে আরো কয়েকটি শৈত্য প্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply